আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: দলীয় কর্মীদের জন্য এবার সপ্তাহে দু’‌দিন সময় দেবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজধানীতে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আগে থেকে অনুমতিও নিতে হবে না।‌ কংগ্রেস সূত্রের খবর, কী ভাবে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে তৃণমূল স্তরের সাধারণ কর্মীদের মতামত নেবেন তিনি। 
পূর্ব উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দিল্লির দূরত্ব ৫০০—৯০০ কিমি। তাহলে লখনউ, এলাহাবাদ বা বারাণসীর বদলে প্রিয়াঙ্কা দিল্লিতে বসবেন কেন?‌ দলীয় সূত্রের ধারণা, দলের অনেক নিচুস্তরের নেতারই দলের অবস্থা নিয়ে অনেক কথা বলার আছে। কিন্তু তাঁরা নেতাদের কোপে পড়ার ভয়ে স্থানীয় স্তরের অফিসে গিয়ে কথা বলার সাহস পান না। প্রিয়াঙ্কা দিল্লিতে দেখা করলে তাঁরা এসে গোপনে খোলাখুলি কথা বলে যেতে পারবেন নেত্রীর সঙ্গে। সেই কারণেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে দলের ভরাডুবির সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে কংগ্রেস।
দলের লক্ষ্য যখন ২০২২ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুথ স্তরের দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতাদের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ইতিমধ্যে দুটি বৈঠক সেরে ফেলেছেন। সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পিছপা হবেন না তিনি। সেই কাজটা করার আগে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। 
গতকালই উত্তরপ্রদেশ পশ্চিমের‌‌ কংগ্রেস নেতা-‌কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তবে, লখনউয়ে হওয়া ওই বৈঠকে দলের অনেক নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। যেমন প্রকাশ জয়সওয়াল, সলমন খুরশিদ, জিতিন প্রসাদ। বৈঠকে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জ্যোতিরাদিত্য পরে বলেছেন, ‘‌দলের নেতা-‌কর্মীরা মতামত জানিয়েছেন। ২০২২ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। ২০২২–এর বিধানসভা ভোটে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার জন্য আবেদন করেছে কর্মীরা।’‌
কয়েকদিন আগে রায়বরেলিতে গিয়ে ঘরোয়া সভায় প্রিয়াঙ্কা দলের ফাঁকিবাজ কর্মীদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‌যারা দলের কাজে ফাঁকি দিয়েছেন, তাদের শীঘ্রই খুঁজে বের করব।’ প্রিয়াঙ্কা মনে করেন, কর্মীরা মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করলে কখনও এমন খারাপ ফল হত না কংগ্রেসের। দলের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে বুথভিত্তিক রিপোর্ট তলব করেছেন‌ উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা ও জ্যোতিরাদিত্য। 
তবে উত্তরপ্রদেশে দলকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়াই এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ৮০–র মধ্যে মাত্র একটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। এমনকী আমেঠিতে হেরে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী।  

‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top