আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ বছরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্বাচন হতে চলেছে এপ্রিল–মে মাসে। দেশের ১৩০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৯০ কোটি মানুষ লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ভোট দেওয়া তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন গণতান্ত্রিক এই অধিকারকে প্রয়োগ করতে পারবে না জেলবন্দীরা?‌ ভারতীয় জেলে কমপক্ষে চার লক্ষ বন্দী রয়েছে। যারা প্রত্যেক বছর এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। 
গত সপ্তাহে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জেল কর্তৃপক্ষের হয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানান আইনের তিন পড়ুয়া। আবেদনে তাঁরা জানান, গোটা দেশের বন্দীদেরকে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। উত্তরপ্রদেশের তিন ছাত্র প্রবীণ কুমার চৌধুরি, অতুল কুমার দুবে এবং প্রেরণা সিং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের আইনের ৬২(‌৫)‌ ধারায় হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই ধারাতে বলা হয়েছে যে ভোট দেওয়ার অধিকার বন্দীদেরও রয়েছে। আইনের তিন পড়ুয়া হাইকোর্টকে জানান যে দেশের মানুষের যে অধিকার রয়েছে, সেই একই অধিকার তো বন্দীদেরও আছে। তবে কেন তারা ভোট প্রদান করা থেকে বিরত থাকবে?‌ আবেদনে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি পুলিস হেফাজত বা শুনানি বা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে যেন সে তার ভোটটা দিতে পারে। সেই ব্যবস্থা পুলিস–প্রশাসনকে করতে হবে। যদিও তিন আইনজীবীর বিপক্ষে গিয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান যে অধিকাংশ বন্দীদের ভুয়ো পরিচয়পত্র। তাই তাদের আসল পরিচয় কি তা অনেকসময়ই জানা যায় না। যদিও তিন আইনজীবী জানিয়েছেন যে বন্দীদের আসল পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ডে তৈরি করার দায়িত্ব নিতে হবে জেল কর্তৃপক্ষকেই।  
এই বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তবে যদি সুপ্রিম কোর্টে তিন আইনের পড়ুযার আবেদন স্বীকৃতি পায়, তাহলে বন্দীরাও তাদের অধিকার পাবে। ভোট দিতে পারবে তারাও।       ‌

 ‌

জনপ্রিয়

Back To Top