আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সোমবার পর্যন্ত হায়দারাবাদে এনকাউন্টারে মৃত অভিযুক্তদের দেহ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিল তেলঙ্গনা হাইকোর্ট। জরুরীভিত্তিক আবেদনের শুনানিতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার সন্ধেয় জানায়, সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত দেহগুলিকে সংরক্ষণ করতে হবে। ময়নাতদন্ত হবে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে। সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে। ওই একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মেহবুবনগরের জেলা বিচারককেও। শনিবার সন্ধের মধ্যে জমা দিতে হবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সোমবার সকাল ১০.৩০টায় পরবর্তী শুনানি করবে তেলঙ্গনা হাইকোর্ট।
শুক্রবার ভোর রাতে পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় চার অভিযুক্তের। তারপর দেশ জুড়ে বহু মানুষ সাইবারাবাদ পুলিশের প্রশংসা করতে শুরু করেছেন। আবার অনেকে বলেছেন, এটা ঠান্ডা মাথার খুন। এই বক্তব্য জানিয়ে তেলঙ্গনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদনও জমা পড়েছে। তা বিবেচনা করে শুক্রবার সন্ধেয় হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, চার অভিযুক্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ একটি কম্প্যাক্ট ডিস্ক বা পেন ড্রাইভে নিয়ে তা মেহবুবনগরের মুখ্য জেলা বিচারকের কাছে পেশ করতে হবে। একই সঙ্গে মেহবুবনগরের মুখ্য জেলা বিচারককে তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন, পেন ড্রাইভ বা কম্প্যাক্ট ডিস্ক শনিবার বিকেলের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে হবে। 
গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে এক চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হায়দরাবাদের ওই ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। 
এসবের মাঝে শুক্রবার ভোর রাতে সাইবারাবাদ পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চারজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য। কিন্তু তাদের মধ্যে দু’জন অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তাই বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার স্বার্থে ওই চারজনের উপর গুলি চালাতে হয় পুলিশকে। তাতে অভিযুক্ত চারজনেরই মৃত্যু হয়। 
সারাদিন ধরে পুলিশ এই যুক্তি ও বিবরণ দিলেও অনেকের কাছে তা গ্রাহ্য মনে হয়নি। তাঁরা মনে করছেন, এটা ভুয়ো এনকাউন্টার। এই অভিযোগ নিয়েই একাংশ মানবাধিকার কর্মী আবেদন জানিয়েছেন তেলঙ্গনা হাইকোর্টে।

জনপ্রিয়

Back To Top