আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাওয়ার গ্রিড বসে যেতে পারে, নিজের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কর্তারাই এই আশঙ্কা প্রকাশ করায় তা দূর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। শনিবার বিবৃতি দিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়েছে, রবিবার রাত ৯টার সময় কোনও পথবাতি বা ফ্রিজ, এসি–র মতো বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বন্ধ করতে বলা হয়নি। হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা ওই ধরনের জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রগুলোতেও সব কিছুই নিয়মমাফিক চলবে। শুধু সাধারণ মানুষকে ঘরের বাতি নেভাতে আবেদন করা হয়েছে। এবং এর কারণে কোনওভাবেই গ্রিড ব্যবস্থায় অস্থিরতা বা ভোল্টেজের তারতম্য ঘটবে না। মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, পাওয়ার গ্রিডে অস্থিরতা বা গ্রিড ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক।
প্রসঙ্গত, দেশের ‘‌শোম্যান প্রধানমন্ত্রী’‌ করোনাভাইরাসের অন্ধকার দূর করতে রবিবার রাতে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট শো–এর ডাক দিয়েছেন। ওই দিন রাত ৯টা নাগাদ দেশের সব আলো নিভিয়ে ৯মিনিট পর্যন্ত শুধু মোমবাতি, প্রদীপ, মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে দীপাবলি উৎসব পালন করতে আর্জি জানিয়েছেন। তারপরই বিদ্যুৎ মন্ত্রকের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দেয়। কারণ তাঁরা বলছেন, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা সিইআরসি–র বেঁধে দেওয়া একটা নির্দিষ্ট মাত্রা মেনেই, গ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা দেশে বিদ্যুৎ বণ্টন বা পাওয়ার ফ্রিকোয়েন্সি সরবরাহ হয়ে থাকে। আচমকা সেই ফ্রিকোয়েন্সি বা ব্যবস্থায় বৃদ্ধি বা ঘাটতির ফলে ধসে পড়তে পারে গ্রিড ব্যবস্থা। মন্ত্রকের কর্তাদের মনের আশঙ্কা দূর করার লক্ষ্যে পাওয়ার গ্রিড অ্যান্ড লোড ডিসপ্যাচার বা পিজিসিআইএল–এর সঙ্গে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী। তারপরই শনিবার ওই ঘোষণা করা হয়।
গ্রিডের কাজকর্মের তদারকির ভার সরকারি কোম্পানি পাওয়ার সিস্টেম অপারেশন কর্পোরেশ লিমিটেড বা পোসোকো–র হাতে। পোসোকো–কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দেশের পাঁচটি আঞ্চলিক লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার এবং জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারকে প্রস্তুত রাখতে যাতে ব্ল্যাকআউটের সময় চাহিদা ঝপ করে পড়ে গেলেও সমস্যা না হয়। রাজ্য সরকারগুলোর বিদ্যুৎ পর্ষদকেও এই অবস্থায় তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও সমস্যা হলে সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে তারা। এনটিপিসি–কেবলা হয়েছে প্রয়োজনে তাদের কিছু গ্যাস স্টেশন বন্ধ রেখে গ্রিডের চাহিদা পূরণ করতে।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top