আজকালের প্রতিবেদন, জয়পুর, ২৭ মে- রবিবার থেকে টানা চারদিন পঙ্গপালের জ্বালায় অতিষ্ঠ জয়পুরের জনজীবন। বাসিন্দারা বিনিদ্র। ছাদে, লনে, বারান্দায়, সিঁড়িতে তো বটেই, পঙ্গপালের ঝঁাক ঢুকে পড়ছে ঘরের ভেতরেও। লক্ষ লক্ষ পঙ্গপালের হানায় প্রচুর খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্র। পরিবেশ মন্ত্রকের ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগের ইনস্পেকটর জেনারেল সৌমিত্র দাশগুপ্ত উদ্বিগ্ন। দেশ যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন পঙ্গপালের এমন হানা পরিস্থিতি জটিল করছে বলেই জানান সৌমিত্রবাবু। এই মুহূর্তে রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের আকাশ ছেয়ে আছে পঙ্গপালের ঝঁাকে। রাজধানীতে ঢুকে পড়ারও আশঙ্কা আছে।
ক্রমশ পূর্ব ভারতের দিকে যাচ্ছে পঙ্গপাল। সৌমিত্রবাবু বলেন, পশ্চিম ভারতে পঙ্গপাল আসেই। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এত সংখ্যায় নয়। তিন দশকে এমন পরিস্থিতি একবারই হয়। তবে এই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব কৃষি মন্ত্রকের। স্প্রে ছেটালে কিছুটা সরে যায় পঙ্গপাল। কিন্তু এবার যে বিপুল সংখ্যায় তারা এসেছে, তাতে চাষের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। রাজ্য সরকারগুলিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দক্ষিণ ইরান ও দক্ষিণ–পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসছে পঙ্গপাল। অতিবৃষ্টিতেই পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকেছে। রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল নষ্ট করেছে। হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশের চাষিরাও আশঙ্কায়। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, ভারত–পাক সীমান্তে আগামী মাসেই আট হাজার কোটি পঙ্গপালের জন্ম হতে পারে। তারা নতুন করে ভারতে হানা দিতে পারে।
পঙ্গপাল মরু অঞ্চলের। তাই চিন্তা বেশি। এরাই ফসলের সব থেকে বেশি ক্ষতি করে। ভারতে ১ জুন বর্ষা শুরু। পঙ্গপাল স্যঁাতসেঁতে আবহাওয়ায় ডিম পাড়ে। ভারত–পাক সীমান্ত এলাকায় বর্ষার সময় আর্দ্রতা বাড়ে। তখন ওই অঞ্চলে পঙ্গপাল বেশি সংখ্যায় ডিম পাড়তে পারে। ১৫ জুন থেকে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি হলেই পঙ্গপাল ওই এলাকায় ডিম পাড়তে শুরু করবে। কিন্তু ওই এলাকা এতটাই দুর্গম যে, সেখানে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সহজ নয়। তবে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাষিরা কীটনাশক ছড়াচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। কেন্দ্র সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
জয়পুরের কৃষি বিভাগের কর্তা এস পি সিং জানিয়েছেন, এখন দেশের যে সব অঞ্চলে পঙ্গপাল রয়েছে, সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাজারে হাজারে পঙ্গপাল মারা পড়ছে। কিন্তু এবার পঙ্গপাল এত বেশি যে, এঁটে ওঠা সহজ হচ্ছে না। পঙ্গপাল এখন গোটা দুনিয়ার মাথাব্যথা। তাই রাষ্ট্রপুঞ্জেও আলোচনা হতে পারে। ডিম পাড়ার আগেই পঙ্গপাল মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুপার সাইক্লোনের ফলেই এবার পঙ্গপাল বেশি। তা ছাড়া এবার মার্চে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় পঙ্গপাল আরও বেশি করে ভারতের দিকে চলে এসেছে।
জয়পুরের বাসিন্দা মনীশ শর্মা জানালেন, লাখ লাখ পঙ্গপাল তঁাদের বাড়ি ঘিরে ফেলায় সোমবার থেকে তঁারা ঘুমোতে পারেননি। পঙ্গপালগুলি ৪ ইঞ্চি লম্বা। কেউ কেউ পঙ্গপাল তাড়াতে বাজি ফাটাচ্ছেন। মনীশ বলেন, ‌‘ওরা থাকলে গাছপালার আর একটা পাতাও থাকবে না। কোনও রাজ্য যেন নিজেদের নিরাপদ না ভাবে। কারণ, ওরা হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে পারে। ১২ তলার ফ্ল্যাটে পর্যন্ত ওরা ঢুকে পড়ছে।’ জয়পুরের আরেক বাসিন্দা থাওয়ার গুপ্তা জানালেন, রাতে পঙ্গপাল থাকছে গাছে। আর দিনের বেলা জ্বালিয়ে মারছে আমাদের। হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিচ্ছে। ‌

পঙ্গপাল তাড়াচ্ছেন জয়পুরের এক বাসিন্দা। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top