আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দেশজুড়ে ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। রাস্তাঘাটে আর নিরাপদ অনুভব করতে পারেন না তাঁরা। শুধু বাইরে নয়, ঘরেও মেয়েদের উপর হিংসার বহু ঘটনা সামনে আসে। সেখানেও নিরাপদ নন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি একটি ভয়াবহ সমীক্ষা সামনে এসেছে। পরিবারকে একত্রিত রাখতে মেয়েদের তাঁদের সঙ্গে ঘটা যেকোনও প্রকারের ঘরোয়া হিংসাকে সহ্য করতে হবে। ৪০ শতাংশ পুরুষ এমনটাই মনে করেন। শুনতে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি। 
একটি অলাভজনক সংস্থা ‘‌অক্ষরা সেন্টার’–এর সমীক্ষা ‘‌বিগ স্মল স্টেপ’‌–এ প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য। দেশের বড় শহরগুলোতে‌ লিঙ্গবৈষম্যের অবস্থা কেমন জানতেই এই সমীক্ষা করেছিল মুম্বইয়ের এই সংস্থাটি। শহরের যুবসম্প্রদায়ের ধারনা জানতেই এই সমীক্ষাটি ছিল। মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই, কলকাতা, বিজয়ওয়াড়া, লুধিয়ানা, আমেদাবাদ এবং ভুবনেশ্বর–এই আটটি শহরের মোট ৬ হাজার ৪২৮ জনের উপর‌ এই সমীক্ষাটি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৩৬৪ জন ছিলেন পুরুষ এবং ৩০৬৪ জন ছিলেন মহিলা।
সেখানেই ৭৯.‌২ শতাংশ পুরুষ এবং ৮৭.‌৪ শতাংশ মহিলা মনে করেন পুরুষ–মহিলা, উভয়েরই সমান অধিকার থাকা উচিত। এছাড়া ৫০ শতাংশ পুরুষ মনে করেন মা–বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অধিকার থাকা উচিত ছেলেদেরই। একই কথা ভাবেন ৩১.‌৩ শতাংশ মহিলাও। 
তবে এই সব বাদ দিয়ে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটি হল– ৪২.‌৬ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, পরিবারকে একত্রিত রাখতে মহিলাদেরই ভূমিকা বেশি। তবে সেক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে ঘরোয়া হিংসা ঘটলেও মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। কেন মেয়েরা মুখ বুজে তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা হিংসা মেনে নেবেন?‌ কেনই বা তাঁদের সঙ্গে এধরনের ঘটনা ঘটবে?‌ তাহলে তো বাইরের জগত এবং যে মানু্ষগুলো তাঁদের নিজেদের– তাঁদের মধ্যে আর কোনও পার্থক্যই রইল না।

জনপ্রিয়

Back To Top