রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: করোনা–সঙ্কটে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় জমতে‌–থাকা ক্ষোভ কাছাকাছি এনেছিল বিজেপি–‌বিরোধী শিবিরকে। এবার কংগ্রেস ও তৃণমূলকে আরও কাছে আনল আমফান। ঘূর্ণিঝড়ের রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ফোন করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কংগ্রেস শিবিরের অনেকে মনে করছেন, প্রিয়াঙ্কা সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরেও মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর তেমন ভাব জমে ওঠেনি। বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রাত সেই পটভূমি তৈরি করে দিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বিকেল ৩টেয় ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে বসছেন ১৮টি অ‌–বিজেপি দলের শীর্ষনেতা। সেই বৈঠক প্রসঙ্গে কলকাতায় মমতা বলেন, ‘‌কাল বিরোধী নেতাদের ভিডিও কনফারেন্স হবে। আমি থাকব। করোনা, বিপর্যয়— এ সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’‌ দিল্লিতে কংগ্রেস সূত্রেও বলা হয়েছে, করোনা, লকডাউন, কেন্দ্রীয় আর্থিক প্যাকেজের পাশাপাশি আমফান বিপর্যয় নিয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী ও মমতা ছাড়াও থাকবেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। যোগ দেবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া, এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পওয়ার, ডিএমকে–র এম কে স্ট্যালিন, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, আরজেডি–র তেজস্বী যাদবদের মতো নেতারা। ন্যাশনাল কনফারেন্সের তরফেও কোনও নেতা বৈঠকে থাকবেন।
এই প্রথম এমন বিরোধী শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে চলছেন উদ্ধব ঠাকরে। সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত করোনা, লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক ও আর্থিক প্যাকেজ নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এখন যোগ হয়েছে আমফান বিপর্যয়। এই সমস্ত বিষয়ে উপযুক্ত আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার দাবিতে একজোট হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে চাইছে বিরোধী দলগুলি।
বুধবার রাতে বাংলাকে লন্ডভন্ড করে বিপর্যস্ত করেছে আমফান। রাতেই দিল্লি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে প্রথমে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তারপর কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ফোন গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ঝড়ের দাপট ও ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন তাঁরা। তখনও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর না–মিললেও বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। বাংলার এই সঙ্কটে সাধ্যমতো পাশে থাকার আশ্বাস দেন সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কা। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কথা অনুযায়ী ‌রাজ্যে তিনটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেগুলি হল করোনা, পরিযায়ী শ্রমিক ও আমফান। এই বিষয়গুলিই উঠতে পারে কালকের আলোচনায়। তিনটের থেকে বৈঠকে থাকবেন তৃণমূলের ডেরেক ও’‌ব্রায়েনও। মমতা ব্যানার্জি সম্ভবত একটু পরে বৈঠকে যোগ দেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি ভুলে কেন্দ্রকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন। এমনিতেই করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় আর পাঁচটা রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক হাল বেশ খারাপ। করোনার ধাক্কায় রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এর আগে আয়লা বিপর্যয় মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাজেটে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রের তৎকালীন মনমোহন সিং সরকার। কিন্তু মোদি জমানায় আরও দুটি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও ফণীর ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিস্তর হইচই হয়েছে। রাজ্য সরকার বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় রাজ্যকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন দেখার, আমফানের ক্ষতিপূরণে কত বরাদ্দ করা হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top