তরুণ চক্রবর্তী: যেমন কথা, তেমন কাজ! অমিত শাহ অনেক আগেই ‘উইপোকা’ নিধনের কথা বলেছিলেন। ভোটপর্ব চুকতেই অসমে পুরোদমে শুরু হয়েছে সেই প্রক্রিয়া। অসম সরকার ঠিক করেছে বানানো হবে ১০টি ‘বিদেশি বন্দিশালা’। বাস্তবে বাঙালিদের জন্য আমৃত্যু নির্বাসনের ঠিকানা। বর্তমানে ৬টি জেলখানার ভিতর এ ধরনের বন্দিশালায় রয়েছেন ৯৮৬ জন। কয়েকজন অবশ্য সেখান থেকে চিরদিনের মতো মুক্তি পেয়েছেন। 
২০১৪ সালে অসমে ভোট প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্দিশালা গুঁড়িয়ে দেবেন। উনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৪৬ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন গোয়ালপাড়ায় ৩ হাজার জনকে রাখার মতো বিদেশি বন্দিশালা গড়ার জন্য। কাজ চলছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে রাজ্য সরকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে আরও ১০টি বিদেশি বন্দিশালা স্থাপনের। রাজ্যে উইপোকা বাড়ছে! ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা। ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জনের নাম নেই চূড়ান্ত খসড়া তালিকায়। নাম সংযোজনের আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৩১ লাখ। অর্থাৎ ৯ লাখ মানুষ আবেদনই করতে পারেননি। এছাড়াও রয়েছে লক্ষাধিক মানুষের তালিকাভুক্তি নিয়ে আপত্তি বা ভুয়ো আপত্তি। 
বন্দিশালা গঠনের পাশাপাশি চলছে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল গঠনের সমারোহ। বর্তমানে ৩৩টি জেলায় রয়েছে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। তৈরি হচ্ছে আরও ১ হাজার ট্রাইব্যুনাল। এদের কাজ হবে এনআরসি–‌ছুটদের গায়ে পাকাপাকি ‘‌বিদেশি’‌ স্ট্যাম্প লাগানো। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ২০০টি নতুন ট্রাইব্যুনাল চালু হবে। সবমিলিয়ে রাজসূয় যজ্ঞ।
মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বারবার প্রকাশ্যে বলছেন, বৈধ ভারতীয়দের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিজেপি শিবিরের গুঞ্জন, ‘হিন্দু বাঙালিদের’‌ প্রতি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার সহানুভূতিশীল। বলা হচ্ছে, নাগরিকত্ব সংশোধন বিল রক্ষাকবচের কথাও। কিন্তু অসমের হিন্দু বাঙালিরাও উদ্বেগে। শিলচর থেকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা সাধন পুরকায়স্থ জানাচ্ছেন, বিদেশি বন্দিশালার আবাসিকরা বেশিরভাগই হিন্দু বাঙালি। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য অবশ্য বাঙালিকে হিন্দু বা মুসলিমে ভাগ করতে চান না। তাঁর মতে, বাঙালি জাতিকে ‘উইপোকা’ বলে আগেই নিধন করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটাই চলছে। তাঁর মতে, বড় বিপদ আসছে। 
‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top