আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৯ জুন রাতে সাথানকুলাম থানায় ঠিক কী ঘটেছিল?‌ কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল ব্যবসায়ী বাবা–ছেলেকে?‌ জানতে সিসিটিভি ফুটেজের খোঁজ করেছিল তদন্তকারী দল। কিন্তু তদন্তে নেমে দেখা গেল, সেই রাতের কোনও ফুটেজই নেই। এমনকী তার পর থেকেই থানার আর কোনও ফুটেজ মেলেনি। আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানাল তদন্তকারী দল। 
ঘটনায় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তদন্ত শুরু করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। সেই তদন্তের রিপোর্ট বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা পড়েছে সোমবার। তাতে আদালতকে জানানো হয়েছে, ১৯ জুন রাতে ওই থানার কোনও ফুটেজই মেলেনি। উল্টে তদন্তকারীদের বারবার বাধা দিয়েছে পুলিশ। এক পুলিশকর্মীর লাঠি প্রমাণ হিসেবে পরীক্ষার জন্য চেয়েছিল তদন্তকারী দল। এড়াতে পাচিল টপকে পালান তিনি। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই লাঠি দিয়েই মারধর করা হয়েছিল জয়রাজ আর ছেলে বেনিক্সকে। লাঠিতে রক্তের দাগও লেগে থাকতে পারে। সে কারণেই পালিয়েছেন ওই পুলিশকর্মী। 
তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল। তারাই প্রকাশ করেছে রিপোর্টের অংশ। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, থানার সিসিটিভি অটো–ডিলিট মোডে রাখা ছিল। অর্থাৎ রোজের ফুটেজ নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যায়। যদিও সিস্টেমের হার্ড ডিস্কে যথেষ্ট স্পেস ছিল। থানায় সেসময় উপস্থিত এক জন মাত্র সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। বাকিরা অসহযোগিতা করছেন। সেই সাক্ষী জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে বাবা–ছেলেকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছিল। লাঠিতে লেগে ছিল রক্তের দাগ। লাঠি যে টেবিলে রাখা ছিল, সেখানেও ছিল রক্তের দাগ। সেই প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করার অনুরোধ জানান সাক্ষী। যদিও পুলিশদের অসহযোগিতায় সেসব পাওয়া যায়নি। এক জন পুলিশকর্মী পালিয়ে গেছেন। আর এক জন জানিয়েছেন, তাঁর লাঠি গ্রামের বাড়িতে রয়েছে। পরে বলেন, কোয়ার্টারে রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, তিনি নিজেই ভয়ে থানা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এ থেকেই স্পষ্টস সেদিন রাতে বাবা–ছেলের কী পরিণতি হয়েছিল। 
লকডাউন বিধি অমান্য করে তুতিকোরিনের কাছে মোবাইলের দোকান খোলা রেখেছিলেন জয়রাজ এবং ছেলে বেনিক্স। সেজন্য তাঁদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারে পুলিশ। চলে যৌন নির্যাতন। ২২ জুন হাসপাতালে মারা যান ৩১ বছরের বেনিক্স। পরের দিন মারা যান তাঁর বাবা জয়রাজ (‌৫৯)‌। পরিবারের অভিযোগ, থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর মারধর করা হয় বাবা–ছেলেকে। বুকের লোম উপড়ে নেওয়া হয়। পায়ু দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তাঁদের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতে নড়েচড়ে বসে দেশ। তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। সিবিআই–কে তদন্তভার দেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। 

জনপ্রিয়

Back To Top