‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আপনি প্লেনে চড়ে ধরে নিন দেশের মধ্যেই কোথাও যাবেন। বেশ একটা নতুন ‘‌এয়ারপোর্ট লুক’‌ বেছে নিলেন। হালকা ট্রাউজার্স, সঙ্গে টি–শার্ট। দু’‌তিনটে বড় ব্যাগ ভরে জামাকাপড়ও নিলেন। হাতে রাখার জন্য একটা ছোট ব্যাগ বা পিঠে ছোট্ট একটি ব্যাকপ্যাক। বেশ মানানসই লাগছে আপনাকে। কিন্তু এটা তো ‘‌এক যে ছিল সময়’–এর কথা হয়ে গেল। এ তো করোনা–যুগ। এখন তো সবার একটিই ‘‌এয়ারপোর্ট লুক’‌।‌ মুখে মাস্ক। তার ওপরে প্লাস্টিকের স্বচ্ছ আচ্ছাদন। হাতে গ্লাভস। এর নীচে কী পরলেন কী যায় আসে। কী শাস্তি!
বিমানবন্দরে পা রাখতেই প্রথম কাজ কী?‌ ফেসবুকে স্টেটাস দেওয়া– ‘‌চেকইন কলকাতা এয়ারপোর্ট, ফ্লাইং টু বেঙ্গালুরু’।

আবার ভুলে গেলেন? জানি জানি,‌ ভাল সময় ভোলা যায় না। কিন্তু এখন প্রথম কাজ একটিই। হাতে স্যানিটাইজার। আর অন্য যাত্রীর থেকে তিন হাতের দূরত্ব বজায় রাখা। এবং থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া।
আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন, প্লেনে উঠে কানে হেডফোনটা লাগিয়ে একটি কফি অর্ডার করব। সঙ্গে একটা স্যান্ডউইচ। কফি খেতে খেতে নীচে ভেসে চলা মেঘের দিকে তাকিয়ে ভাবব, আহা এ যে মেঘবালিকারা খেলা করে!‌ টিংটং!‌ আরে জাগুন জাগুন। স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। এখন রেডার সর্বক্ষণ সজাগ রাখতে হবে। কোথাও কেউ হাঁচছে কাশছে না তো!‌ অজান্তে ‌কোনওকিছু ছুঁয়ে ফেললেন না তো?‌
এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করার সময়ে, চোখ চলে যায় ট্রলি ব্যাগ নিয়ে গটগট করে হেঁটে যাওয়া পাইলট, পুরুষ স্টিওয়ার্ড ও বিমানসেবিকাদের দিকে।

অবাক লাগে। নিজেদের এত ফিটফাট, টিপটপ রাখেন কীকরে তাঁরা। ভুলে গেলে হবে?‌ বিমানসেবিকা ও পুরুষ স্টিওয়ার্ড‌ পেশার বড় অঙ্গ এটাই। নিজেকে উপস্থাপনযোগ্য করে তোলা। তাঁদের পোশাকের বড় ভূমিকা রয়েছে এই কাজটিতে। প্লেনে ওঠার সময়ে তাঁদের স্বাগত জানানোর মধ্যেও যেন আন্তরিকতা থাকে। এয়ারপোর্টে বসে তাঁদের পোশাক দেখে আপনি চিনে যাবেন তাঁরা কোন এয়ারলাইন সংস্থার। কিন্তু এসব তো আড়াই মাস আগের কথা। এখন ‌বিমানসেবিকা ও স্টিওয়ার্ডদের মুখে হাসি হয়তো থাকবে। কিন্তু তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে আতঙ্ক। তাঁদের সাজগোজ সবই ঢাকা পড়ে গিয়েছে সুরক্ষামূলক পোশাকে। 

জনপ্রিয়

Back To Top