সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: প্রথম পর্বের পরীক্ষায় নিরাপত্তার দিকটি চমৎকার ভাবে উতরে গেছে ভারতের নিজস্ব দুটি কোভিডের টিকা। এগুলো হল আইসিএমআর–‌এর সহযোগিতায় তৈরি–‌হওয়া ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন এবং ক্যাডিলা হেল্‌থকেয়ার লিমিটেডের টিকা জাইকোভ–‌ডি। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে। চৌবে জানিেয়ছেন, এখন দুটি টিকারই দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিকা তৈরিতে নানা জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। তাই ঠিক কবে টিকা দুটি পাওয়া যাবে, নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে সরকার এবং শিল্প সংস্থা দু’‌পক্ষই দ্রুত টিকা বাজারে আনার চেষ্টা করছে।’
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য–‌রাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন জানান, বিশ্বের অন্য দুটি দেশের টিকার পরীক্ষা–‌নিরীক্ষায় অংশীদার সিরাম ইনস্টিটিউট ও আইসিএমআর। এর মধ্যে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চ্যাডক্স ১এস–‌এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এ দেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠানে। এই টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব মিলে পরীক্ষার শীর্ষে রয়েছে চেন্নাইয়ের আইসিএমআর–‌ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ ইন টিউবারকিউলোসিস। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য নতুন স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া স্থগিত রাখতে সিরাম ইনস্টিটিউটকে আগেই নির্দেশ দিয়েেছ ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া। এই টিকা নেওয়ার পর এক স্বেচ্ছাসেবকের মেরুদণ্ডে প্রদাহ দেখা দেওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে–‌কারণে টিকা পরীক্ষা বন্ধ রাখে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তবে ব্রিটেনে টিকার পরীক্ষা ফের শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার নোভাভ্যাক্স টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অংশীদার আইসিএমআর ও সিরাম ইনস্টিটিউট। এই টিকার পরীক্ষা শুরু হবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেবে পুনের আইসিএমআর ন্যাশনাল এইডস ইনস্টিটিউট। আইসিএমআর–‌এর ডিজি বলরাম ভার্গব এদিন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকার খেঁাজ এখনও মেলেিন। তার আগে পর্যন্ত মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। 
এদিন চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ দপ্তরের বায়োসেফটি প্রধান গুইঝেন য়ু দাবি করেছেন, সে–‌দেশে নভেম্বরেই সাধারণের জন্য মিলবে কোভিড ভ্যাক্সিন। এখন চীনে চারটি কোভিড–‌১৯ প্রতিষেধক টিকা রয়েছে চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে। তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছে মসৃণ গতিতে, জানিয়েছেন য়ু। চীনের বৃহত্তম সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ এবং সাইনোভ্যাক বায়োটেক টিকা তিনটি তৈরি করেছে। চতুর্থ টিকা তৈরি করছে ক্যানসাইনো বায়োলজিক্‌স। এদিকে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাসাকো জানিয়েছেন, এ–‌পর্যন্ত ৩০০–‌র বেশি স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হয়েছে ‘‌স্পুটনিক ভি’‌ টিকা। এঁদের মধ্যে ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তঁারা কেউ ক্লান্তিতে ভুগছেন, কারও পেশিতে ব্যথা, আবার কারও জ্বর এসেছে। তবে মন্ত্রীর আশ্বাস, উদ্বেগের কারণ নেই। এ–‌রকম হওয়ারই কথা। টিকার ম্যানুয়ালেই এ–‌সব উপসর্গের কথা বলা আছে।

জনপ্রিয়

Back To Top