আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থা ভয়াবহ!‌ বিশ্বের ১০৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯৪ নম্বরে। প্রতিবে‌শী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ভারত, দেখা যাচ্ছে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২০ (‌‌জিএইচআই)‌‌‌‌–তে। 
দেখা যাচ্ছে, ক্ষুধা সূচকে প্রতিবেশী দেশগুলি ক্রমতালিকায় ভারতের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের আগে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৭০), নেপাল (৭৩), বাংলাদেশ (৭৫), পাকিস্তান (৮৮)–এর মতো দেশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও নিয়মিত নজরদারির অভাবই ভারতের সমস্যার বড় কারণ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে অবস্থার উন্নতি হলেই সার্বিকভাবে ভারতের স্থান ওপরে উঠতে পারে। 
এই ইনডেক্স প্রকাশের পরেই শনিবার নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইটে লিখেছেন, ‘‌ভারতের গরিব মানুষেরা ক্ষুধার্ত। কারণ, সরকার শুধু নিজের কিছু ‘‌মিত্রোঁ’র পকেট ভরতেই ব্যস্ত!’‌ রাহুল প্রায়ই অভিযোগ করেন, দেশের ১৫–‌২০ জন শিল্পপতিকে কোটি কোটি টাকার কর মকুব  তাঁদের পকেট ভরাতেই ব্যস্ত মোদি। 
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (‌‌জিএইচআই) ২০২০–র রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের বহু দেশেই আগের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ২০১৮ সালে ১১৯ দেশের মধ্যে ১০৩ নম্বরে ছিল ভারত। গত বছর ১১৭ দেশের মধ্যে ভারত ১০২ নম্বরে ছিল। এ বছর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, দেশের ১৪ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার। অপুষ্টির কারণে ঠিকমতো বড় হয়নি এমন শিশুর (‌চাইল্ড স্টান্টিং)‌ হার ৩৭.৪ শতাংশ। বয়সের অনুপাতে কম দৈর্ঘ্য ও ওজনের শিশুর সংখ্যা ভারতে বাড়ছে। মৃত্যুও হচ্ছে অনেক শিশুর। ৫ বছরের নীচে শিশুমৃত্যুর হার ৩.‌৭ শতাংশ। 
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের এই পরিসংখ্যান ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য রীতিমতো উদ্বেগের। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পরিবারের আর্থিক অনটন, খাবারের খারাপ মান ও প্রসূতির পুষ্টির অভাব।

জনপ্রিয়

Back To Top