সংবাদ সংস্থা, বেঙ্গালুরু: তিনি মন্ত্রী৷ তাই নাকি তাঁর জন্য আলাদা নিয়ম। বিমানে দিল্লি থেকে ফিরলেও কোয়ারেন্টিনে থাকার দায় তাঁর নেই। এরকমই জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডি ভি সদানন্দ গৌড়া। 
অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরুর প্রথম দিনেই বিতর্ক ডেকে আনলেন সদানন্দ। কর্ণাটকে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন একসময়। এখন কেন্দ্রে মোদি সরকারের সার ও রাসায়নিক দপ্তরের মন্ত্রী। প্রায় দু’‌মাস বন্ধ ছিল উড়ান। সোমবার সকালে প্রথম সুযোগেই দিল্লি থেকে ঘরে ফিরে এসেছেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে গেছেন নিজের বাড়ি। অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা সব বিমানযাত্রীর জন্য সাত দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন এবং সাত দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে কর্ণাটক সরকার৷ দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ুর মতো যে রাজ্যগুলিতে করোনা সংক্রমণের হার বেশি, সেখান থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কিছু বেশি। সদানন্দ গৌড়া সে সবের ধার ধারেননি। বিমানবন্দরে নেমেই নিজের গাড়িতে উঠে রওনা দেন তিনি৷ তাঁর সহকারীর দাবি, যাত্রার আগে কোভিড পরীক্ষা করিয়েছেন গৌড়া৷ তার ফল নেগেটিভ এসেছে৷ সদানন্দ গৌড়া নিজে বলেন, ‘‌রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মবিধিতে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে আমার তা প্রাপ্য। এ নিয়ে কথা ওঠার কিছু নেই।’‌ তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের ওষুধ দপ্তর তো তাঁরই হাতে। তাঁর কাজই তো দেশে ওষুধ জোগানো। তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকলে চলবে কেন?‌ মন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‌যদি ডাক্তাররা কোয়ারেন্টিনে থাকেন, ওষুধ সরবরাহ করেন যাঁরা, তাঁরা কোয়ারেন্টিনে থাকেন, তা হলে করোনাভাইরাসকে হারাবে কে?‌’‌ গৌড়া দাবি করেন, তাঁর মোবাইল ফোনে আরোগ্য সেতু অ্যাপও ডাউনলোড করা আছে৷
কর্ণাটক সরকারের নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট করে মন্ত্রীদের ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, একমাত্র জরুরি কোনও কাজে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়মে ছাড় দেওয়া হবে৷ তবে তার জন্য তাঁদের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ থাকতে হবে৷ আইসিএমআর অনুমোদিত ল্যাব থেকে যাত্রা শুরুর আগের দু’‌দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা করাতে হবে। কর্ণাটকে পাঁচ দিনের বেশি থাকলে আবার পরীক্ষা করাতে হবে৷ সূত্রের খবর, রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অনেকেই পরীক্ষা করিয়ে নিয়েছেন৷‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top