আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আসবে কিনা তা বলা কঠিন বলে মনে করেন আইসিএমআরের প্রধান বলিরাম ভার্গব। তবে বিশাল দেশের কোনও কোনও অংশে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তাঁর ধারণা। সংবাদ সংস্থা এএনআই–কে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি এখনও কোনও নিশ্চিত জায়গায় পৌঁছোয়নি। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে করোনার সংক্রমণের আধিক্য বা মৃত্যুহার বিভিন্ন রকমের হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, নতুন এই রোগের চরিত্র নিয়ে ‘‌আমরা এখনও অনেক কিছুই জানি না।’ বিভিন্ন দেশে এবং বিভিন্ন জায়গায় এর চরিত্র বিভিন্ন রকমের। সেজন্যই এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মানুষকে সাবধান থাকতে হবে এবং সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের লকডাউন ঘোষণা ও আনলক ঘোষণার হটকারী সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এজন্য তিনি আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এদিকে, মঙ্গলবার দেশে সংক্রমিতের সংখ্যা  ৫২,০৫০। দেশে মোট করোনা রোগী সাড়ে ১৮ লাখের বেশি। তবে স্বস্তির বিষয়, করোনায় মৃত্যুহার কমেছে। সুস্থতার হার অনেক বেড়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের হিসেবে, দেশে কোভিড টেস্টের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত মৃত্যুহার ছিল ২.১৫ শতাংশ। সোমবার তা নেমে এসেছে ২.১৩ শতাংশে। গত সপ্তাহেও এই হার ছিল ২.৩৩ শতাংশ। সুস্থতার হার ৬৫.৮ শতাংশ। 
স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের এ যাবৎ করোনায় মৃতদের ৬৮ শতাংশ পুরুষ ও বাকি ৩২ শতাংশ মহিলা। মন্ত্রকের সচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি ছিলেন ৬০ বা তার বেশি বয়সের মানুষ। ৪৫–৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার হল ৩৭ শতাংশ, ২৬–৪৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৮–২৫ ও ১৮–র নীচে মৃত্যুহার হল ১ শতাংশ করে। এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫,৮৬,২৯৮ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২ লক্ষের বেশি মানুষ। তাছাড়া প্রথম লকডাউনের সময় ধরে এই মুহূর্তেই মৃত্যুহার (‌২.‌১০ শতাংশ)‌ সবচেয়ে কম। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ কথা জানিয়ে রাজেশ ভূষণ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মোট ৬ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেশের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীরা ক্রমশই বেশি সংখ্যায় করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অমিত শাহ, শিবরাজ সিং চৌহান, বি এস ইয়েদুরাপ্পা, সত্যেন্দ্র জৈন, কার্তি চিদম্বরম, বানোয়ারিলাল পুরোহিতদের পর এবার করোনায় আক্রান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, তিনি সুস্থই আছেন। তবে কিছু উপসর্গ থাকায় পরীক্ষা করিয়েছিলেন। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওদিকে, পরিবারের দুই সদস্যের পজিটিভ রিপোর্ট আসায় নিভৃতবাসে গেলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব।‌

জনপ্রিয়

Back To Top