সংবাদ সংস্থা, মুম্বই: ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙল মুম্বইবাসীর। রাতভর বৃষ্টিতে বাণিজ্যনগরী ভাসছে। জল ঢুকেছে নীচু এলাকার ঘরবাড়িতে। করোনার ধাক্কায় স্কুল–কলেজ বন্ধ। অফিসকাছারি যেগুলি খোলা ছিল, নাগাড়ে বৃষ্টির দাপটে বন্ধ সেগুলিও। জলের নীচে তলিয়ে গেছে রেল লাইন, সড়কপথ। বন্ধ ট্রেন। দেখা নেই বাসের। গোরেগঁাও, কিং সার্কেল, হিন্দমাতা, দাদর, শিবাজি চক, শেল কলোনি, কুরলা এসটি ডিপো, বান্দ্রা টকিজ, সিওন রোড–সহ ২৬টি এলাকায় বন্যা–পরিস্থিতি। কান্ডিভিলি–লাগোয়া ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের মালাডে ধস নামায় দক্ষিণ মুম্বইয়ের যোগাযোগ–ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুর–প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের মুম্বই, ঠানে, পুনে, রায়গড় ও রত্নগিরি–সহ একাধিক জেলায় মঙ্গল ও বুধবার অতি–ভারী বৃষ্টির ঘোষণা করে লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা নেই।
সোমবার রাত ৭টা থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোর পঁাচটা নাগাদ বৃষ্টির দাপট একটু কমেছিল। তার পর আবার যে–কে–সেই!‌ ভারী বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ এলাকায় বাড়ি ভেঙে পড়ায় জলে ভরা হাইড্র‌্যান্টে তলিয়ে যান এক মহিলা ও তঁার তিন সন্তান। পুলিশ দু’‌বছরের একটি মেয়েকে উদ্ধার করেছে।
বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ার আসায় দুপুর পৌনে একটা নাগাদ জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয় সমুদ্রে। সাড়ে চার মিটার উঁচু ঢেউ উঠবে, সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল আগেই। বস্তুত, ২০০৫ সালের পর মুম্বইয়ে এত বৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তঁার কথায়, ‘‌চার ঘণ্টায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। এ–রকম হলে বিশ্বের যে–কোনও শহর স্তব্ধ হবে।’‌ 
বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের জেরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠে পশ্চিম উপকূলে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। তার পর তা অবস্থান বদল করে আরব সাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় মারাত্মক শক্তি সঞ্চয় করে ভাসাচ্ছে মুম্বই, রত্নগিরিকে।

জনপ্রিয়

Back To Top