রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: রাজস্থান বিধানসভা মামলা আবারও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। এবার হাইকোর্টের রায়কে ‘‌অসাংবিধানিক’‌ ও ‘‌বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মহেশ যোশি। ‌তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশি শচীন পাইলট–‌সহ ১৯ ‘‌বিদ্রোহী’‌ বিধায়ককে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে। মহেশ যোশি ১৯৯২–‌এর একটি মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় উল্লেখ করে হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্পিকারও হাইকোর্টের ২৪ জুলাইয়ের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আর একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন।
এদিকে, শচীন পাইলটের প্রতি নরম মনোভাব দেখাতে শুরু করেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। ক’‌দিন আগেই পাইলটকে যিনি ‘‌নিকম্মা’‌ বলতেও ছাড়েননি, এদিন তিনি বলেছেন, ‘‌কংগ্রেস হাইকমান্ড যদি শচীন পাইলট ও তাঁর সঙ্গীদের ক্ষমা করে দেয়, তাহলে আমি তাঁদের স্বাগত জানাব।’‌ আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের থেকে ১টি মাত্র আসন বেশি রয়েছে গেহলটের হাতে। সেক্ষেত্রে যে কোনও মুহূর্তে পাশা উল্টে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই দলের বিধায়কদের জয়পুর থেকে সরিয়ে জয়সলমেরের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 
রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ১৪ আগস্ট। তার আগে ঘর গোছাতে ব্যস্ত উভয় শিবির। শনিবার জয়সলমেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন গেহলট। গতকালই ‘‌বিধায়ক কেনাবেচার দরদাম বাড়ানো হয়েছে’‌ বলে অভিযোগ করেছিলেন। শনিবার তিনি আবারও বলেছেন, ‘‌রাজস্থান নিয়ে এবার নাটক বন্ধ করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‌রাজস্থানে বিধায়ক কেনাবেচায় সরাসরি মদত জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অমিত শাহ ছাড়াও পীযূষ গোয়েল, ধর্মেন্দ্র প্রধানদের মতো মন্ত্রীদের মাঠে নামানো হয়েছে।’‌ বসপা–‌র ৬ বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন গত বছর। তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গে বিজেপি–‌র সমালোচনা করে তাদের ‘‌দু’‌মুখো সাপ’‌ বলেছেন গেহলট। এ প্রসঙ্গে রাজ্যসভায় চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের (‌টিডিপি)‌ ৪ সাংসদের বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top