বিভাস ভট্টাচার্য: করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে যৌনকর্মীদের খাদ্য ও অর্থসাহায্য করতে কেন্দ্র ও‌ রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে তাঁদেরকে মাস্ক, সাবান ও স্যানিটাইজেশনের অন্যান্য জিনিস দিতে হবে। এর জন্য কোনও পরিচয়পত্র চাওয়া যাবে না। যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির (ডিএমএসসি) করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমএসসি–‌র তরফে জানানো হয়েছে, অতিমারীর ফলে সারা দেশে দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন ৯ লক্ষেরও বেশি মহিলা ও রূপান্তরকামী যৌনকর্মী। যাতে তাঁরা সহযোগিতা পান সেজন্যই সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হয় এবং যৌনকর্মীদের দুর্দশার দিকটি বিবেচনা করে আদালত এবিষয়ে কেন্দ্র ও সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেয়। 
ডিএমএসসি–‌র প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য উপদেষ্টা ডাঃ স্মরজিৎ জানা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী যৌনকর্মীরাও মানুষ এবং তাঁদের সসম্মানে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ফলে তাঁদের সমস্যাগুলি খুঁজে বের করে সেগুলির সমাধান করতে হবে। আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে এ বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।
আবেদনের আগে গোটা দেশজুড়ে ডিএমএসসি যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। 
ডিএমএসসি জানিয়েছে, যৌনকর্মীদের কোনও পেনশন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা বা শ্রমের স্বীকৃতি নেই। ৪৮ শতাংশ যৌনকর্মী রেশন ব্যবস্থার সুবিধা পান না। ৭১ শতাংশ যৌনকর্মীদের প্রতিদিনকার প্রয়োজন মেটানোর জন্য অন্য কোনও রোজগারের মাধ্যম নেই। আধার ও রেশন কার্ড না থাকাতে এক বিরাট অংশের যৌনকর্মী সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। 
ডিএমএসসি আবেদন করেছে অতিমারী থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত যৌনকর্মীদের প্রতিমাসে শুকনো খাবারের সঙ্গে অর্থসাহায্য করা হোক।  এই সাহায্য তাঁরা পাচ্ছেন কি না তা দেখার জন্য একটি কমিটি গড়া হোক। রাজ্য শ্রম দপ্তর এবং অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক উন্নয়নের যে বোর্ড আছে সেখানে যৌনকর্মীদের নাম নথিভুক্ত করা হোক। যাতে তাঁরা সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পান।

জনপ্রিয়

Back To Top