আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভেবেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ দেশে এনে বাজিমাত করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরে রাতারাতি নিজের দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজের রাজনৈতিক মর্যাদা বাড়ানোর সহজ পন্থা বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এই অত্যুৎসাহ কার্যত শাঁখের করাতে পরিণত হয়েছে।
সেই ‘‌হাউডি মোদি’‌ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। সেবার ‘‌অবকি বার ট্রাম্প সরকার’‌ স্লোগান তুলেছিলেন মোদি। আমেরিকায় নির্বাচন আসছে। ট্রাম্পের ওপর শিল্পপতিদের চাপ মারাত্মক। তারা ভারতের বাজারে অবাধ প্রবেশ চায়। কিন্তু, বাদ সাধছে আরএসএস। সঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশীয় শিল্পের আরও দুর্দশা ডেকে আনতে দ্বিধা রয়েছে মোদির। নাছোড় আমেরিকা ক্ষেপে গিয়ে ডব্লুটিও–‌‌র প্রসঙ্গ তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য, বাণিজ্যে বিশ্বায়ন মেনে নেওয়ার পরেও ভারতে মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত কর চাপানো কেন?‌
আমেরিকা এতদিন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চেয়ে এসেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে আলোচনার অজুহাত দিয়ে মোদি এতদিন ব্যাপারটি ঠেকিয়ে রাখছিলেন। কিন্তু, আমেরিকা আর অপেক্ষা করতে নারাজ। এখন বিষয়টা কার্যত স্নায়ুর যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। যা পরিস্থিতি, ট্রাম্পের দু’‌দিনের ভারত সফরে কাটছাঁট হবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। ট্রাম্পের আগে ভারতে আসার কথা ছিল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজারের। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আমেরিকা জানিয়েছে, তিনি আসছেন না। এ যাত্রায় বাণিজ্য চুক্তি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই।
এদিকে, ট্রাম্পের এই সফরের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢেলে বসে আছে ভারত। যে–‌কোনও মূল্যে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি অন্তত করতে চাইছে দিল্লি। মঙ্গলবার প্রিন্স জর্জ কাউন্টিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেই দিয়েছেন, ‘ভারত আমাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে না। এ যাত্রায় কোনও চুক্তি হচ্ছে না। চুক্তি তোলা রইল ভবিষ্যতের জন্য।’‌ মনে রাখতে হবে, অতীতে ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ আখ্যা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সফর ঘিরে মেঘ ঘনিয়েছে, দিনের শেষে ভারতের প্রাপ্তি শূন্য!‌ আগামী ২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে দু’দিনের ভারত সফরে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিরাট আয়োজন চলছে এদেশে, বিশেষ করে গুজরাটে। কিন্তু এর মধ্যেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মতানৈক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ভারত চাইছে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বিশেষ কিছু পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করুক ওয়াশিংটন। আবার আমেরিকা তাদের কৃষিজাত পণ্য ও চিকিৎসা যন্ত্রাংশের ঢালাও ব্যবসা করতে চায় ভারতের বাজারে। এমনকী, তাদের দাবি, ডিজিটাল পণ্য–‌সহ তাদের একাধিক পণ্য থেকে ভারত শুল্ক প্রত্যাহার করুক। পিৎজা, চিজ–‌সহ আরও বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়ার চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু, দেশের পশুপালকদের কথা স্মরণ করিয়ে মোদির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে আরএসএস। এতকিছুর পরেও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে মোদি ও ট্রাম্প দু’‌‌জনেই নিজ নিজ দেশের শিল্পমহলের চাপের মুখে রয়েছেন। কিন্তু, শেষ 
মুহূর্তে পরিস্থিতির বড় কোনও 
পরিবর্তন না হলে এ যাত্রায় তেমন চুক্তি হচ্ছে না। 
ট্রাম্পের সফর ঘিরে তোড়জোড়ের অন্ত নেই। আমেদাবাদে ঝুপড়ি ঢাকতে মস্ত দেওয়াল। যমুনায় হরিদ্বারের জল ঢেলে  স্বচ্ছতা প্রদর্শন, সব আয়োজনের মাঝে সমস্যা দেখা দিয়েছে ট্রাম্পের তাজমহল দর্শন কর্মসূচিকে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তাজমহল চত্বরে গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা টিমের দাবি, ট্রাম্পের বিশেষ লিমুজিনটিকে তাজমহলে ঢুকতে দিতেই হবে। প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তা খোলা আকাশের নীচে দিয়ে ট্রাম্পের হেঁটে যাওয়া মেনে নিচ্ছেন না তারা। মোদি সরকার পড়েছে ফাঁপরে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের তাজমহল সফরের সময়ে একই ইস্যুতে বাগড়া দিয়েছিল তৎকালীন উত্তরপ্রদেশ সরকার।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top