আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভগবান রামের বেশেই অযোধ্যায় শিলান্যাস করতে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরাবরই চুরিদার, পাজামা–কুর্তা পরতে অভ্যস্ত মোদিজি এদিন পরলেন পীতাম্বরী ধুতি এবং সোনালি কুর্তা। এই পোশাকেই বুধবার ২৯ বছর পর সরযূ নদীর তীরে অযোধ্যায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভূমিপুজোয় যোগদানের আগে হনমানগঢ়ি মন্দিরে দর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর ফের বস্ত্রবদল করে সোনালি এবং হলুদ মেশানো একটি রঙের পাঞ্জাবি এবং সাদা পাজামা পরে রামমন্দিরের ‘‌ঐতিহাসিক’‌ ভূমিপুজোয় বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকের দাবি, হিন্দুধর্মে সোনালি এবং হলুদ রঙ শুভ। আর তাই এই বিশেষ দিনের জন্য ওই দু’‌টি রঙ মেশানো একটি রঙের পাঞ্জাবি পরেন প্রধানমন্ত্রী। 
প্রধানমন্ত্রীর বেশভূষায় রীতিমতো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। প্রথমত রামমন্দিরের ভূমিপুজোয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকেই বিরোধীরা বাঁকা চোখে দেখছেন। ভারতের মতো ‘‌ধর্মনিরপেক্ষ’‌ দেশে কোনও একটি বিশেষ ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী?‌ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। অনেকে এক্ষেত্রে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। তাঁদের দাবি, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থেই সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধনে যাননি নেহরু। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ গিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। তারপর নেহরু এক চিঠিতে রাজেন্দ্র প্রসাদকে লিখেছিলেন, ‘‌আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধনে আপনার উপস্থিতি আমার পছন্দ হয়নি। আপনার মন্দিরে যাওয়া নিয়ে আমার সমস্যা নেই। যে কেউ যেতে পারে। কিন্তু আপনি এমন একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, দুর্ভাগ্যবশত তার একাধিক ইঙ্গিত রয়েছে। মন্দির কেন, মসজিদ বা চার্চ থেকে আমায় আমন্ত্রণ জানালেও আমি যেতাম না।’‌ তাই বিরোধীদের দাবি, দেশের একজন নাগরিক হয়ে মোদিজি ভূমিপুজোয় যেতে পারেন, কিন্তু ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রামমন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন না।

জনপ্রিয়

Back To Top