‌‌‌সংবাদ সংস্থা, কোহিমা: সাংবিধানিক সঙ্কটের মুখে নাগাল্যান্ড। নেফিউ রিওর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি–‌‌র সরকার গড়ার পথে কঁাটা হয়ে দঁাড়িয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল এনপিএফ। জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই ইস্তফা দেবেন না তাঁদের নেতা, মুখ্যমন্ত্রী টি আর জেলিয়াং। ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টি (‌এনপিপি)‌ এবং জেডিইউ–‌এ‌র সঙ্গে তাদের প্রাক্‌–‌নির্বাচনী নথি রাজ্যপালের কাছে জমাও দিয়েছে। এক বিবৃতি এনপিএফ জানিয়েছে, ‘‌সরকার গড়তে যথেষ্ট সংখ্যক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। তাই এখনই জেলিয়াংয়ের পদত্যাগ করার প্রশ্নই উঠছে না। তা ছাড়া নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে তো তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব সামলাতেই হয়।’‌ 
এই এনপিএফ–‌‌এর সঙ্গে জোটে ছিল বিজেপি। ভোটের কিছু দিন আগে এনপিএফ ছেড়ে নতুন দল এনডিপিপি গড়েন রিও। বিজেপি সরকার না ছেড়েই জোট করে রিওর দলের সঙ্গে। নর্থ ইস্ট ডেমোক্র‌্যাটিক অ্যালায়েন্স (‌নেডা)‌‌-‌র উপদেষ্টা এবং অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, ‘‌এনপিএফের সঙ্গে ১৫ বছর কাজ করছি। সেই জোট ভেঙে গেছে। আমরা এনডিপিপি–‌‌র সঙ্গে অঁাতাত করে নির্বাচনে লড়েছি, এনপিএফের সঙ্গে নয়।’‌ এনপিএফ কিন্তু এখনও বলছে যে, বিজেপি–‌‌র সঙ্গে তাদের জোট অটুট রয়েছে। তঁার পাল্টায় বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনডিপিপি–‌‌বিজেপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সুতরাং জেলিয়াং মানে–‌মানে পদত্যাগ করে যেন নতুন সরকারের পথ প্রশস্ত করেন। 
সঙ্কটের সুরাহা খুঁজতে জেলিয়াং এবং এনডিপিপি–‌‌বিজেপি’‌র মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী নেফিউ রিওকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন রাজ্যপাল পি বি আচার্য। বলেছেন, এর মধ্যে কার পাশে কতজন বিধায়ক, তঁাদের সই–‌সহ প্রমাণপত্র জমা দিতে। বিজেপি ও তাদের শরিক ইতিমধ্যে সেই কাজটি সাফল্যের সঙ্গে সেরে ফেলেছে। জানিয়েছেন বিশ্বশর্মা। তার আগে রবিবার জেলিয়াং এবং রিও দু’‌‌জনেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি করেন। রিও আগ বাড়িয়ে এও জানিয়েছিলেন যে, ৭ কি ৮ মার্চ কোহিমার লোকাল গ্রাউন্ডে শপথ নেবেন। এবং তাতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় স্তরের বিজেপি নেতাদের সমর্থন চাইতে দিল্লি যাওয়া কথা ছিল রিওর। তবে শেষ মুহূর্তে তা বানচাল করেছেন, কারণ ঘরের পরিস্থিতি এখনও ঘোলাটে। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top