আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি, ১০ জুলাই

মাত্র ১৫ দিনেই সিদ্ধান্ত বদল!‌ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা থেকে বাদ পড়ল মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। দেশ জুড়ে করোনা আবহে একদিকে যখন মাস্ক ও স্যানিটাইজার অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী বলে চিহ্নিত করছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা, যার জেরে এই দুটি জিনিসের চাহিদাও তুঙ্গে, তখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট বিস্ময়কর। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক কোম্পানিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিসন্ধি দেখছে কংগ্রেস। 
একের পর এক টুইটে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। জানতে চেয়েছেন, ১৬ জুন থেকে কী এমন পরিবর্তন হয়েছে, যার জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইজারকে ১৯৫৫–‌‌র আইন অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল?‌ ১৬ জুন চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই দুটি সামগ্রীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকায় ঠাঁই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর ১ জুলাই কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক সেগুলিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়। ১ জুলাইয়ের সেই বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরে টুইট করে সুরজেওয়ালার বক্তব্য, ‘‌প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিপর্যয়ের মধ্যেও সুযোগের সন্ধান করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে বিজেপি–র সঙ্গে বহুজাতিক বাণিজ্যিক সংস্থার অশুভ আঁতাত প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা থেকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারকে বাদ দিয়েছে। ফলে এখন থেকে এই দুই সামগ্রী যে কোনও দামে বিক্রি করা যাবে!‌’‌
অথচ ১৬ জুন সরকারের বক্তব্য ছিল, ‘‌লকডাউনের কড়াকড়ি লঘু করা হচ্ছে, তাই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা বাড়তে পারে। তাই এই দুই সামগ্রীকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে গণ্য করা হবে। অধিক গুরুত্ব দিয়ে ন্যায্য মূল্যে সামগ্রী দুটির জোগান বজায় রাখা হবে।’‌ কংগ্রেসের প্রশ্ন, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে কী এমন ঘটল যে সামগ্রী দুটিকে তালিকা থেকে বাদ দিতে হল?‌ জনগণকে অধিক মূল্যে এই দুই সামগ্রী কিনতে কেন বাধ্য করা হচ্ছে?‌ করোনা–‌‌যুদ্ধে এই দুই সামগ্রীর সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে না কেন?‌ এ কেমন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই?‌ সরকারের তরফে এ ব্যাপারে কোনও জবাব মেলেনি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top