আজকালের প্রতিবেদন: মুকুল রায়কে কি রাজ্যসভায় টিকিট দিচ্ছেন বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব?‌ আপাতত পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি এবং মুকুলের ঘনিষ্ঠমহলে এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। ২৩ মার্চ রাজ্যসভার ভোট। মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়ে গেছে সোমবার থেকে। বিজেপি–ও তৎপর হয়ে ময়দানে নেমেছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ইতিমধ্যেই ৮ জনের নাম রাজ্যসভার জন্য ঘোষণা করেছে। এঁদের প্রত্যেকেরই মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এই দফায়। কিন্তু সেই তালিকায় মুকুলের নাম নেই। ইস্তফা না–দিলে মুকুলেরও মেয়াদও এঁদের সঙ্গেই শেষ হত।  
তালিকা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় আনা হচ্ছে অরুণ জেটলিকে। মধ্যপ্রদেশ থেকে আনা হচ্ছে থাওয়ার সিং গেহলট এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। গুজরাটের দু’‌টি আসন থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মনসুখ মাণ্ডব্য এবং পরষোত্তম রুপালাকে। হিমাচল প্রদেশ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে। বিহার থেকে রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং রাজস্থান থেকে ভূপেন্দর যাদবকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। 
প্রশ্ন হল, এঁদের পাশাপাশিই কি মুকুলকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেবে বিজেপি?‌ দিলে কোন রাজ্য থেকে?‌ বিজেপি সূত্রের খবর, মুকুলকে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। অন্তত মুকুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের তেমনই দাবি। কিন্তু সম্প্রতি সেখানেও একটা ‘‌জটিলতা’‌ তৈরি হয়েছে। 
মুকুল শিবিরের দাবি ছিল, জেটলিদের সঙ্গেই মুকুলকে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া হবে। সে বিষয়ে তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন বিজেপি–র একাংশের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড থেকে দলের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্রকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসতে চায় দল। ৪৩ বছরের সম্বিত এমনিতে ওডিশার মানুষ। পেশায় চিকিৎসক। ২০০৬ সালে বিজেপি–তে যোগ দেন। ২০১২ সালে তিনি দিল্লি পুরসভার ভোটে কাশ্মীরি গেট কেন্দ্র থেকে লড়ে হেরে যান। কিন্তু তারপরেও দলের অন্দরে সম্বিতের গুরুত্ব কমেনি। বরং তাঁকে বিজেপি–র কেন্দ্রীয় কমিটিতে ওডিশার প্রতিনিধি হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক কমিটির সদস্য তো বটেই, বিভিন্ন চ্যানেলেও সম্বিত দলের ‘‌নিয়মিত মুখ’। সে কারণে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতেও নিয়ে আসতে চায় বিজেপি। সম্বিতকে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসা হতে পারে বলে দলীয় একটি সূত্রের দাবি। 
আবার অন্য একটি সূত্রের দাবি, ঝাড়খণ্ড নয়, ওডিশা থেকে সম্বিতকে রাজ্যসভায় আনা হবে। কারণ, তিনি ওডিশার লোক। অন্য রাজ্য থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসাটা তাঁর পক্ষে ভাল হবে না। কিন্তু সম্বিতের মনোনয়ন ঝাড়খণ্ড থেকে হলে মুকুল সমস্যায় পড়বেন। কারণ, ঝাড়খণ্ডের বাইরে থেকে একাধিক প্রার্থী দিলে স্থানীয় আবেগ ক্ষুণ্ণ হবে।  
মুকুল অবশ্য তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড সংক্রান্ত কোনও খবর তাঁর কাছে নেই। তিনি রাজ্যসভার জন্য দরবারও করছেন না। তাঁর এক ঘনিষ্ঠের কথায়, ‘‌দাদা রাজ্যসভার জন্য দরবার করলে তাঁকে লোভী মনে হতে পারে। কিন্তু উনি তো তৃণমূল ছাড়ার পর রাজ্যসভা থেকে নিজেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে ‌তিনি যে সাংসদ হওয়ার জন্য লালায়িত নন, সেটা স্পষ্ট। সে কারণেই উনি এসব নিয়ে কোনও পর্যায়েই কোনও আলোচনা বা অনুরোধ করছেন না।’ 
বিজেপি–র একটি অংশের দাবি, তৃণমূল ছাড়ার পর মুকুল রাজ্যসভার সাংসদপদ ছেড়েছিলেন এই শর্তেই যে, তাঁকে প্রথম সুযোগেই আবার রাজ্যসভায় ফিরিয়ে আনা হবে। বস্তুত, মুকুলকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে নেওয়া হবে, এমনও দাবিও একটা সময়ে তাঁর শিবিরের তরফে করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকমাসে তা না–হওয়ায় মুকুলের ঘনিষ্ঠদের উৎসাহে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েছে। যেমন, মুকুলের অনুগামী তৃণমূলের ছাত্রনেতা সুজিত শ্যাম না বলে–কয়ে গত সোমবার মুকুলের সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন। সেই বিষয়ে মঙ্গলবার দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছেন মুকুল। নিজের লেটারহেডে লেখা ওই এফআইআরে তিনি জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে থেকে সুজিত উধাও হয়ে গিয়েছেন। সুজিত তাঁর অনুগামী এবং তাঁর দিল্লির বাড়িতেই তিনি থাকতেন। সুজিতকে খুঁজে বার করার জন্য মুকুল পুলিসের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, সুজিতের ‘‌মোহভঙ্গ’‌ হয়েছে। তিনি আবার তৃণমূলমুখী। 
ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার আগরতলা গিয়েছেন মুকুল। আজ, শুক্রবার ত্রিপুরায় শপথ নেবে নতুন সরকার। সেই অনুষ্ঠানে থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের। ‌মুকুল শিবিরের দাবি, তাঁকে সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যা বিশেষ ‘‌তাৎপর্যপূর্ণ’‌।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top