আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কেউ ফোনে জানতে পারলেন চণ্ডীগড় থেকে মেয়ে ফিরছে। তো কেউ বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছেলেকে ঈদে বাড়ি আসতে নিষেধ করলেন। এমনই টুকরো টুকরো ছবি দেখা যাচ্ছে এখন জম্মু–কাশ্মীরে।
বুধবার রাতেই প্রশাসন টিভি এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাশ্মীরবাসীদের জানিয়ে দেয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুটি ফোনলাইন খোলা থাকবে। সেই মতো শ্রীনগরের লাল চওকে ডেপুটি কমিশনার শাহিদ চৌধুরির অফিসে ভিড় করেন বহু মহিলা। কারণ পুরুষদের বেশি চেকিং–এর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবাইকে সুযোগ দিতে প্রত্যেককে এক মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। তেমনভাবেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকা ছেলেকে ফোনে ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে নিষেধ করে দেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, জওহর নগরের বাসিন্দা এক গৃহবধূ। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, শ্রীনগরের পরিস্থিতি এখনও থমথমে থাকার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাওয়ালের বাসিন্দা ফাহমিদা ফোনেই জানতে পারেন তাঁর মেয়ে চণ্ডীগড় থেকে বিমানে ফিরছেন শ্রীনগর। মেয়ের সঙ্গে কথা বলে তৃপ্ত ফাহমিদা বললেন, এবার নিশ্চিন্ত মনে তাঁরা মেয়েকে বিমানবন্দরে আনতে যেতে পারবেন। 
অন্যদিকে, রাওয়ালপোরার বাসিন্দা আঞ্জুম বিকেল পাঁচটার পর পৌঁছনোয় জম্মু এবং দিল্লিতে থাকা তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি। ডেপুটি কমিশনারের অফিস থেকে বলা হয় বিকেল পাঁচটার পর কোনও মহিলা নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় পরে আসা মহিলাদের ভিতরে যেতে দিতে পারবেন না তাঁরা। আঞ্জুম সহ অনেক মহিলাই এজন্য ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল দীর্ঘ সময় মহিলা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা।
শুক্রবার সকাল থেকে জম্মু–কাশ্মীরে কিছু কিছু স্কুল, কলেজ খুলেছে। বিকেল থেকে জম্মু পুরসভা অঞ্চলে  উঠে গিয়েছে ১৪৪ ধারা। শনিবার থেকে সব স্কুল, কলেজই খুলে যাবে। একথা জানিয়েছেন জম্মুর জেলাশাসক সুষমা চৌহান। এদিন সন্ধ্যাতেই জম্মু–কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল ২০১৯–এ স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। 
ছবি:‌ এএনআই‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top