‌আজকালের প্রতিবেদন: অনাদায়ী ঋণ নিয়ে কংগ্রেসকে বিঁধতে গিয়ে গতকাল সংসদে বেমালুম ভুলভাল পরিসংখ্যান দিয়ে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য ছিল, দেশে অনাদায়ী ঋণ নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তার কারণ গত সরকারের সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয় এমন ঋণ দেওয়া। এরপর তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, আগের সরকার অনাদায়ী ঋণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিত না। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘‌আপনারা ক্ষমতায় থাকার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলতেন অনাদায়ী ঋণ হল ৩৬ শতাংশ। ২০১৪ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর সত্য বার করতে রেকর্ড দেখতে শুরু করি। অনাদায়ী ঋণ ছিল ৮২ শতাংশ।’‌ 
এখন এই শতাংশের হিসেবটা হল মোট কত ঋণ দেওয়া হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে। ব্যাঙ্কগুলি যত ঋণ দিয়েছে তার ৩৬ শতাংশও যদি অনাদায়ী ঋণ হয়, তাহলে পুরো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাহলে কোথায় গন্ডগোল করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী?‌ ধরে নেওয়া হয় তিনি ৩.‌৬ শতাংশকে পড়েছেন ৩৬ শতাংশ, এবং ৮.‌২ শতাংশকে পড়েছেন ৮২ শতাংশ। কিন্তু এরপর একটি ইংরেজি ওয়েবসাইট জানায়, সেটাও ঠিক নয়। কারণ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩–১৪ সালে অনাদায়ী ঋণ ছিল মোট ঋণের ৩.‌৮ শতাংশ। ২০১৫–১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.‌৫ শতাংশ। 
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, প্রধানমন্ত্রী এই হিসেবগুলো পেলেন কোথায়?‌ উত্তর জানা যায়নি। তবে ওয়েবসাইট ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর বিজেপি–‌র টুইটার হ্যান্ডল থেকে ওই তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ক্লিপ সরিয়ে দেওয়া হয়।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top