আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি, ১৫ এপ্রিল- লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন নরেন্দ্র মোদির বায়োপিকের মুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের শেষ নেই। ভোট না মেটা পর্যন্ত ‘‌পিএম নরেন্দ্র মোদি’‌ ছবির মুক্তি আটকে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর সোমবার আবারও কমিশনকে ছবিটি দেখার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে দিল্লির নির্বাচনী দপ্তর কমিশনকে জানাল, মোদির জীবন নিয়ে ওয়েব সিরিজ চলছে বিনা অনুমতিতেই।
গত বুধবার, নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর জীবন–আশ্রিত ওই ছবির মাধ্যমে পরোক্ষে নির্বাচনী প্রচার হবে৷ সেই কারণেই নির্বাচন চলাকালীন ওই ছবি মুক্তির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে ছবির মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল৷ শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা আগে ছবিটি দেখে বিবেচনা করুক নির্বাচন কমিশন৷ তারই ভিত্তিতে ছবিটিকে পরোক্ষ নির্বাচনী প্রচার বলে কমিশন।
এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘মোদি: জার্নি অফ আ কমন ম্যান’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ ঘিরে। উমেশ শুক্লা পরিচালিত ১০ পর্বের ওই ওয়েব সিরিজও আসলে নরেন্দ্র মোদির জীবনকথা। নির্বাচন কমিশনের ‘‌মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি’‌র অনুমোদন ছাড়াই তা দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে তা জানিয়ে দিল  দিল্লির মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। অভিযোগ, এই ওয়েব সিরিজ চলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। 
শাসক দল বিজেপি–র প্রতি দূরদর্শনের পক্ষপাতও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮০ ঘণ্টা। এই পক্ষপাতের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস। অভিযোগ পেয়ে নির্বাচন কমিশন চ্যানেলের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চায়। কমিশনের বিধি অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখানো যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময়ের মধ্যে যেন মাত্রাতিরিক্ত ব্যবধান না থাকে। দূরদর্শনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।
দূরদর্শন অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক আধিকারিকের মতে, দেশের ১৬টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। তাই সময়ের ভিত্তিতে সম্প্রচার বিচার করলে বিজেপি–‌র এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক। সম্প্রচারের সময়ের ব্যবধানের পাশাপাশি দূরদর্শনের কাছে আরও একটি ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। ৩১ মার্চে প্রধানমন্ত্রীর ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ ভাষণ বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কেন সম্প্রচার করা হল, জানতে চেয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top