তরুণ চক্রবর্তী- মণিপুরের পর এবার মিজোরাম। করো‌নাভাইরাসে আক্রান্ত বছর ৫০–‌এর এক ব্যক্তি। সপরিবার তিনি নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ঘুরে এসেছেন সম্প্রতি। রাজধানী আইজলের জোরাম মেডিক্যাল কলেজের আইসোলেশনে তঁার চিকিৎসা চলছে। জানা গেছে, তঁার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। পরিবারের বাকিদের অবশ্য মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও নেগেটিভ।
মঙ্গলবার সকালে উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের প্রথম করোনা–‌আক্রান্তের খবর মেলে। মণিপুরের এক তরুণীর রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। একই দিনে মেলে উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় কোভিড–‌১৯ পজিটিভের রিপোর্টও। মিজোরামের ধর্মযাজকের শরীরের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ জানায়, রিপোর্ট পজিটিভ। বুধবার সেই খবর চাউর হতেই নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। 
জানা গেছে, ওই ধর্মযাজক স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আমস্টারডাম গিয়েছিলেন। ১৬ মার্চ দিল্লি–‌গুয়াহাটি হয়ে আইজল ফেরেন তিনি। প্রথম দিকে সুস্থই ছিলেন। কিন্তু ২২ মার্চ করোনার উপসর্গ ধরা পড়ে। ভর্তি করা হয় আইজলের জোরাম মেডিক্যাল কলেজে। তঁার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও রাখা হয় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। গুয়াহাটি থেকে ধর্মযাজকের রিপোর্ট পজিটিভ এলেও, বাকি তিনজনের রিপোর্ট কিন্তু নেগেটিভ। রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মিশনে মিজোরামের অধিকর্তা এরিক জামারিয়া জানিয়েছেন, আক্রান্তের স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। মিজোরামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর লালথাংলিয়ানা জানিয়েছেন, লকডাউনের মধ্যেই সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, অসমের শিলচরে নতুন করে ছড়িয়েছে করোনার আতঙ্ক। স্থানীয় এক মডেল সম্প্রতি ইতালি ঘুরে এসেছেন বলে জানা গেছে। ইতালিতে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তিনি তড়িঘড়ি সেখান থেকে মুম্বই–‌দিল্লি–‌গুয়াহাটি হয়ে শিলচর আসেন। আশার কথা, জানা গেছে, তঁার শরীরে কোভিড–‌১৯ নেই। তঁাকেও কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। শিলচরের পাশেই মণিপুর ও মিজোরাম। এই দুই রাজ্যে করোনা–‌সংক্রমণের খবরও এখানকার বাঙালিদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।
অন্য দিকে, উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের ৮ রাজ্যেই চলছে লকডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সমস্ত সীমানা। সব জায়গাতেই লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ–‌প্রশাসন। ত্রিপুরায় লকডাউন অমান্য করলেই যথেচ্ছ লাঠিচার্জ করছে পুলিশ। অসমের কলিয়াবরে পুলিশ অভিনব পন্থা নিয়েছে। কেউ লকডাউন ভাঙলেই তঁার হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে ছবি তুলে ছেড়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকছে, ‘ময় (আমি) দায়িত্বজ্ঞানহীন মূর্খ’!  
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top