সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২৭ মে- ভারতের শিল্পক্ষেত্র থেকে শ্রম আইন পুরোপুরি তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। মনে করেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী  সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার। যেভাবে শ্রমিক স্বার্থ পুরোপুরি খর্ব করে উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট শ্রম আইন সংস্কারের পথে হাঁটছে, তার সঙ্গে তিনি একমত নন, এমনটাই জানান গাঙ্গোয়ার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র বিভিন্ন রাজ্যকে শ্রম আইন সংস্কারের প্রস্তাব দিেয়েছে। তবে ওই দুই রাজ্যের পদক্ষেপের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রস্তাবের মিল নেই। তবে শ্রম আইন যৌথ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাই তাঁর সাফাই, রাজ্যের সব বিষয়ে কেন্দ্র নাক গলাতে পারে না। একইসঙ্গে তিনি আভাস দিয়েছেন, শ্রম আইনের সংস্কারের বাকি কাজ সংসদের আগামী অধিবেশনেই সেরে ফেলতে চায় সরকার। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে চাপের মুখে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে অবস্থান বদল করল উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। জানিয়ে দিল রাজ্যের আগাম অনুমতি ছাড়াই উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকদের কাজে নিয়োগ করতে পারবে অন্য রাজ্যগুলি। গত রবিবারই যোগী নির্দেশ দেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্য রাজ্য সেখানকার শ্রমিকদের কাজে নিতে পারবে না। এরপরেই ওই নির্দেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 
মে মাসের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশে অর্ডিন্যান্স এনেছে যোগীর সরকার। তাতে আগামী তিন বছরের জন্য প্রায় সমস্ত শ্রম আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের যাবতীয় কারখানা, শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে। আট ঘণ্টার কাজের সময় বাড়িেয় ১২ ঘণ্টা করা হলেও ওভারটাইমের মজুরি দেওয়া হবে না। বিজেপি শাসিত গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ সরকারও একই পথে। এ নিয়ে দেশ জুড়ে সোচ্চার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। প্রতিবাদে শামিল আরএসএসের ছত্রছায়ায় থাকা শ্রমিক সংগঠন বিএমএস–‌ও। শ্রম আইনকে খারিজ করার চেষ্টায় সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও। ভারত গোড়া থেকেই আইএলও–‌র সদস্য। এই সংস্থার চুক্তির ধারা অনুযায়ী, ভারতে একজন শ্রমিকের সপ্তাহের কাজের সময় ৬০ ঘণ্টা। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মেনে নেন যে, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ আইএলও–‌র চুক্তি খারিজ করেছে। তিনি জানান, কেন্দ্র শিগগরিই এ নিয়ে সব রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীদের বৈঠক ডাকবে। সেখানেই তাদের বলা হবে, আইএলও চুক্তির বিষয়টি মাথায় রেখেই শ্রম সংস্কারে পদক্ষেপ করতে হবে। তিনি একথাও বলেন যে, শ্রম আইন বাতিল করার প্রশ্ন নেই। এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত করাও সম্ভব নয়। পাশাপাশি তাঁর সাফাই, কিছু আইন বদলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগে না। এবং রাজ্যের সব সিদ্ধান্তে কেন্দ্র নাক গলাতে পারে না। শ্রমমন্ত্রী জানান, শ্রম আইন সংস্কার করে ইনস্পেক্টরদের বদলে আনা হবে ফেসিলিটেটরদের। তারা ইনস্পেকশনের নামে হেনস্থা করার বদলে শিল্পমহলকে সাহায্য করবে। 
পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর দাবি, শ্রমিকেরা হেঁটে ফিরছেন নিজের কেন্দ্র বরেলিতে এমন দৃশ্য তাঁর চোখেই পড়েনি। তিনি মনে করেন, সঙ্কটে পড়ে নয়, শ্রমিকেরা করোনার ভয়েই বাড়ি ফিরতে চেয়েছেন। এখন বেশির ভাগ শ্রমিকই ফিরে গেছেন। ছোটখাটো পকেটে সমস্যা কিছু আছে। তবে রাজ্য ও কেন্দ্র শ্রমিকদের পরিবহণ, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। ফেরার প্রক্রিয়া জুন ও জুলাই মাসেও চলবে। বর্ষার পর শ্রমিকেরা কারখানায় ফিরবেন। ফলে আশু ভবিষ্যতে কারখানাগুলিতে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকের অভাব হবে। গাঙ্গোয়ার জানান, দেশ জুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। প্রত্যেককে দেওয়া হবে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর। কীভাবে পরিযায়ীদের ইপিএফ ও ইএসআইয়ের সুবিধা দেওয়া যায় সে নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। ১৯৪৯ সালের রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক আইনে বদল আনা হবে। অন্য রাজ্যে গেলেও পরিযায়ীরা যাতে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পান তা দেখা হবে। শ্রমমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই নয়া মজুরি বিধি পাশ হয়েছে। সম্ভবত জুলাইয়ে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিধি এবং  শিল্প সম্পর্ক বিধি নিয়ে আলোচনা হবে। বিধি পাস করানোর চেষ্টাও হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিনিয়োগ টানতেই শ্রম সংস্কার দরকার। মহামারী পরিস্থিতির জন্য সে কাজ ফেলে রাখা যাবে না।

সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার

জনপ্রিয়

Back To Top