আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনার জেরে সারা দেশে লকডাউন। দেশ আনলকের পথে হাঁটলেও করোনা রুখতে এর পর লকডাউন করতে বাধ্য হয় কিছু রাজ্য। আর এসবের জেরে উৎপাদন তলানিতে। কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি। জুনের থেকে জুলাইয়ের অবস্থা আরও শোচনীয়। 
জুনে পিএমআই (‌পারচেসিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স)‌ ছিল ৪৭.‌২। জুলাইতে তা নেমে দাঁড়াল ৪৬–এ। মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় এই ইনডেক্স— নতুন বরাত, উৎপাদন, পণ্যর পরিমাণ, জোগান এবং নিয়োগ। পিএমআই থেকে স্পষ্ট, খুব শিগগিরই দেশ এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারবে না। 
লকডাউনে বহু পরিযায়ী শহর ছেড়ে নিজেদের গ্রামে ফিরেছেন। বলা ভালো, ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রামের কর্মসংস্থান কিন্তু বাড়েনি। গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। নতুন করে কাউকে নিয়োগ আর সম্ভব নয়। তাই বেশিরভাগ পরিযায়ী বেকার। আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। চাহিদায় কোপ দিতে বাধ্য হয়েছেন। সন্তানদের স্কুল ছাড়িয়ে দিয়েছেন। ঘুরপথে এবং সরাসরি ফল ভুগছে সেই অর্থনীতিই। পড়ছে বাজার।
উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরের চিত্তরঞ্জন কুশওয়াহার কথাই ধরা যাক। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা রয়েছে। ২০১৪ সালে পুনে গেছিলেন। সেই থেকে সেখানেই একটি সংস্থায় অ্যাসেম্বলি লাইনের কাজ করছেন। বেতন ছিল ২১ হাজার। লকডাউনে গ্রামে ফিরতে বাধ্য হন। কমন সার্ভিস সেন্টারে একটা কাজ পেয়েছেন। বেতন আগের তিন ভাগের এক ভাগ। 
সেই দিয়ে কোনওমতে সংসার চলছে। কারণ যেহেতু গ্রামে রয়েছেন, তাই খরচ অনেক কম। চাহিদাতেও লাগাম পরিয়েছেন। তিন ছেলে–মেয়ে পড়ত বেসরকারি স্কুলে। বেতন ছিল ৫০০ টাকা করে। সব মিলিয়ে ১৫০০ টাকা দেওয়া আর সম্ভব নয়। তাই স্কুল ছাড়িয়েছেন সন্তানদের।
সরকারি নথি বলছে, বিহার, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশের ১১৬টি জেলায় ফিরেছেন ৬৪ লক্ষ পরিযায়ী। তাঁদের এক চতুর্থাংশের বাড়িই ১৭টি জেলায়। সবথেকে বেশি ফিরেছেন বিহারে। ৩২টি জেলায় ফিরেছেন ২৩.‌৬ লক্ষ পরিযায়ী। ঘরে ফেরা মোট পরিযায়ীর ৩৭.‌২ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (‌১৭.‌৪৭ লক্ষ ফিরেছে)‌। তৃতীয় মধ্যপ্রদশে (‌১০.‌৭১ লক্ষ)‌। এর পরেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডে করোনা বেড়েছে। তার জেরে ধাক্কা খেয়েছে অর্থনীতি। কাজ হারানোর ভয়ে মানুষ সঞ্চয় বাড়িয়েছেন। ফলে জিনিসের চাহিদা কমেছে। আরবিআই–এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষে জিডিপি–র ৭.‌২ শতাংশ ছিল নেট ফিনানশিয়াল সেভিংস। ২০১৯–২০–তে তা বেড়ে হয়েছে ৭.‌৭ শতাংশ।  
ছ’‌টি রাজ্যের ১১৬টি জেলা ‌গরিব কল্যাণ রোজগার যোজনার আওতায় পড়ে। এই যোজনায় কাজ পাচ্ছেন পরিযায়ীরা। মে মাসে এই জেলার ৮৯ লক্ষ ৮৩ হাজার পরিবার ১০০ দিনের কাজ (‌এমজিএনআরইজিএ)‌ পেয়েছ। ২০১৯–এ এই সংখ্যাটা ছিল ৪৮ লক্ষ ২২ হাজার। তার পরেও কিন্তু বহু পরিযায়ী এখনও কর্মহীন। কেউ দক্ষতা ছাড়াই কোনও পেশায় নিযুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছেন। আশা একটাই, কবে আবার পুরনো নিয়োগকারী সংস্থারা ডেকে নেবে তাঁদের। ফিরে পাবেন আগের রোজকার। সেই দিন কিন্তু খুব কাছে নয়। 
মার খেয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্প (‌এমএসএমই)। ২৩ জুন থেকে ৭ জুলাই একটি সমীক্ষা হয়। তাতে দেখা গেছে, আগের তিন মাস এই ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্প ৫০ শতাংশ রাজস্ব হারিয়েছে। ৬০ শতাংশ সংস্থা নিজেদের কর্মচারীকে পুরো বেতন দিতে পারেনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top