রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: মুলায়ম সিং যাদবের জন্য ভোটে প্রচার করবেন মায়াবতী!‌ আগামী মাসের ১৯ তারিখ মুলায়মের নির্বাচনী কেন্দ্র মৈনপুরীতে এক মঞ্চে দেখা যেতে পারে মুলায়ম–‌‌মায়াবতীকে। আড়াই দশক আগের ‘‌গেস্ট হাউস কাণ্ড’‌ ভুলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহনজি। দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যে মোট ১২টি যৌথ সমাবেশ করবেন অখিলেশ যাদব, মায়াবতীরা। তবে, নিজে প্রার্থী হচ্ছেন না মায়াবতী। তিনি নিজেই এই ঘোষণা করেছেন। অনেকে বলছেন, মুলায়মের জন্য মায়া হয়েছে মায়াবতীর।‌ 
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি–‌‌র বিরুদ্ধে মহাজোট করে লড়াইয়ে নেমেছে সপা–‌‌বসপা–‌আরএলডি। সপা প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে রাজ্যে প্রচার অভিযানের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছে মায়াবতীর। সেখানে ঠিক হয়েছে, এবার রাজ্যে মোট ১২টি বড় মাপের যৌথ সমাবেশ হবে। সেখানে সপা নেতাদের সঙ্গে থাকবেন মায়াবতীও। ১১ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ৮টি কেন্দ্র:‌ সাহারানপুর, কৈরানা, মুজফ্ফরনগর, বিজনৌর, মেরঠ, বাগপত, গাজিয়াবাদ ও গৌতমবুদ্ধ নগরে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে ওই অঞ্চলে দুটি যৌথ সভা করবেন অখিলেশ–‌‌মায়াবতী। ৭ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে প্রথম সমাবেশ হবে। সাহারানপুর যেহেতু দলিত ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা, তাই সেখান থেকেই মহাজোটের বার্তার সূচনা করতে চায় উভয় দল।

৯ এপ্রিল নাগিনা কেন্দ্রে সভা করবেন তাঁরা। তারপর ১৯ এপ্রিল মৈনপুরীতে একটি সভায় যাবেন মায়াবতী। মুলায়মের সঙ্গে এক মঞ্চে হাজির হয়ে তাঁর জন্য ভোট চাইবেন। 
’‌৯৫–‌‌এর ২ জুন জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন মায়াবতী। তারপর ক্ষুব্ধ সপা কর্মীরা লখনউয়ের মীরাবাই গেস্ট হাউসে চড়াও হয়েছিল। সে সময় দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন বহেনজি। তাঁর ঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল। কুমন্তব্যের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সপা কর্মীদের হাতে প্রহৃত হয়েছিলেন বহেনজি। সেদিন বিজেপি বিধায়ক ব্রহ্ম দত্ত দ্বিবেদী মায়াবতীকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় মুলায়ম ও মায়াবতীর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তারপর কেউ ভাবেনি উভয়কে এক মঞ্চে আর কোনওদিন দেখা যাবে।
মৈনপুরী থেকে ১৯৯৬, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে সাংসদ হন মুলায়ম। ২০১৪ সালে মৈনপুরীর পাশাপাশি আজমগড় কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। দু’টি আসনেই জয়ী হন। পরে মৈনপুরী থেকে ইস্তফা দেন। 
শোনা গিয়েছিল এবার মায়াবতী বিজনৌর বা আম্বেদকর নগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু, পরে সিদ্ধান্ত বদলেছেন বহনজি। বসপা নেতারা জানাচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হল, বহনজি নিজে প্রার্থী হলে দলের প্রচারে সময় দিতে পারবেন না। তাঁর লক্ষ্য রাজ্য থেকে যত বেশি সম্ভব আসন সংগ্রহ করা যাতে কেন্দ্রে বিজেপি–‌‌বিরোধী জোট সরকার গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে দরাদরিতে নামতে পারেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top