আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গুপ্তধনের লোভে স্ত্রীকে অনাহারে রাখা, মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল এক ব্যক্তিকে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ধর্মগুরুকেও। মহিলাটির শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার শিনগাঁও গ্রামের ঘটনা। ধর্মগুরুর উপদেশ মেনে স্ত্রীর উপর টানা ৫০ দিন অত্যচার করেছে ওই ব্যক্তি। জানা গেছে, ২০১৮ সালের আগস্টে ওই মহিলার বিয়ে হয়। এরপরই এক ধর্মগুরু ওই মহিলার স্বামীকে জানায়, তারা গুপ্তধন পেতে পারে। কিন্তু তার জন্য স্ত্রীকে অনাহারে রাখতে হবে। এবং পূজাপাঠ সহ অন্যান্য আচার পালন করতে হবে। তারপর থেকেই মহিলার উপর অত্যাচার শুরু করে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। টানা ৫০ দিন সামান্য পরিমাণে খাবার দেওয়া হত ওই মহিলাকে। রাত দুটো ২.‌৪৫ থেকে পূজাপাঠে বসতে বাধ্য করা হত। যা চলত সকাল অবধি। কোনও ভুলচুক হলেই শ্বশুরবাড়ির তরফে চলত শারীরিক ও মানসিক অত্যচার। এমনকি বাপেরবাড়ির লোকের সঙ্গে যাতে কোনওরকম যোগাযোগ না রাখতে পারে, তার জন্য মহিলার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়া হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবার সন্দেহ হয়। ওই ব্যক্তি মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যান। কিন্তু মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে চমকে ওঠেন। এরপর মেয়েকে ওখান থেকে নিয়ে চলে আসেন ওই ব্যক্তি। এরপর মহারাষ্ট্রের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় গোটা ঘটনাটি জানান মেয়েটির বাবা। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেয়। গত মঙ্গলবার মহিলার স্বামী ও ধর্মগুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top