দীপঙ্কর নন্দী: ২০১৬–‌র ৮ নভেম্বর নোটবন্দি চালু হয়। তিন বছর পূর্ণ হল। নোটবন্দি চালু হওয়ার পর থেকে দেশের অর্থনীতির বিপর্যয় শুরু হয়। দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোটবন্দি ঘোষণার পরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন। ওইদিন মধ্যরাতেই তিনি বলেছিলেন, ‘‌দেশে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা শুরু হল।’‌ 
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী টুইট–‌এ লেখেন, ‘‌২০১৬ সালে আজকের দিনে নোটবন্দি চালু করা হয়। ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বলেছিলাম দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন এর ফলে বিঘ্নিত হবে। এখন বিশ্বে তাবড় অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ সবাই একই কথা বলছেন।’‌ এদিন মমতা আরও একটি টুইট করেন। তাতে লেখেন, ‘‌৮ নভেম্বর থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছিল। আর আজ দেখুন, কী পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ব্যাঙ্ক সঙ্কটে অর্থনীতি মন্দায়। সকলে ভুক্তভোগী। কৃষক থেকে মজদুর, ছাত্র থেকে যুব, ব্যবসায়ী থেকে গৃহবধূ সকলেই সমস্যায় রয়েছেন।’‌
নোটবন্দির পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূলই রাস্তায় নেমে মিছিল করে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে মমতা নিজে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। শুধু বাংলাতেই নয়, বিভিন্ন রাজ্যে তিনি নোটবন্দির বিরুদ্ধে সভাও করেন। সংসদে তৃণমূলের সাংসদরা প্রতিবাদ করেন। সংসদের সামনে গান্ধীমূর্তির নীচে বারবার দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। 
মুখ্যমন্ত্রী এখনও বলেন, ‘‌নোটবন্দির উদ্দেশ্য নাকি কালো টাকা ফিরিয়ে আনা। আজ পর্যন্ত কোনও কালো টাকা ফেরানো হয়নি। মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বেশ কিছু  ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে বেকার হয়েছেন।’‌ বিভিন্ন রাজ্যে নোটবন্দির ফলে কত বেকার হয়েছেন তার একটি তালিকাও তৈরি করা হয় দলের পক্ষ থেকে। 
২০১৯–‌এর লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্রিগেডে ২৩টি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে মমতা সভা করেন। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে সব নেতাই নোটবন্দির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এখনও তৃণমূলের বিভিন্ন সভায় দলের নেতারা এই নোটবন্দির বিরুদ্ধে বলেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘‌এই নোটবন্দির ফলেই দেশে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। যা জরুরি অবস্থার চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর। ২০১৯–‌এ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর জন্য কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কালো টাকা ফিরে আসছে না। দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানেই দলের সভা হবে সেখানে নোটবন্দির বিরুদ্ধে বলতে হবে। বিজেপি–‌র উদ্দেশ্য যে জনবিরোধী ছিল, তা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে।’‌‌‌
এদিন কলকাতায় নোটবন্দির বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক গৌরব গগৈ, অমিতাভ চক্রবর্তী, শুভঙ্কর সরকার, কৃষ্ণা দেবনাথ প্রমুখ। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে বিলগ্নীকরণে প্রতিবাদ জানিয়ে দলের নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top