সব্যসাচী সরকার, পুরী: দেশের মানুষের শান্তি কামনা করে বুধবার বিকেলে পুরীর শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন বিকেলে তিনি মন্দিরে আসেন। তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত–সহ অন্য পুরোহিতরা। ৩৫ মিনিট মন্দিরে ছিলেন। জগন্নাথদেবের পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মন্দির চত্বরে অন্যান্য যে বিগ্রহ রয়েছে, সেখানেও তিনি যান। পুজোও দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্য এদিন মন্দির কমিটি বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছিল। 
পুজো দিয়ে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌আমার দেশ ভাল থাকুক। মানুষে মানুষে বিভেদ, ভেদাভেদ নয়। সবাই শান্তিতে থাকুন। আমরা খুন চাই না। আমরা শান্তি চাই।’‌ দিল্লির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আহত, আলোড়িত। তাঁর কথায়, ‘‌আমার হৃদয় আজ খুব কাঁদছিল। চারদিকে যা হচ্ছে আমি এসেছি শান্তির জন্য, আমার সব ভাইবোনেরা যেন ভাল থাকে। আমি তাঁদের হয়ে প্রার্থনা করার জন্য এসেছি। আমার দেশের জন্য শান্তি কামনা করে বাংলা, ওডিশা–সহ সকল পরিবারের জন্য আমি এখানে পুজো দিতে এসেছিলাম। জগন্নাথদেবের কাছে এই প্রার্থনাই করলাম।’‌
এদিন ৪টে ১৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে আসেন। সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী যখন মন্দিরের দিকে হেঁটে আসছেন, তখন পথের দু’‌ধারে এবং আশপাশের বাড়ির জানলায়, বারান্দায়, ছাদে অসংখ্য মানুষ। মন্দির চত্বরের কাছে আসতেই অপেক্ষমাণ মহিলারা উলু দিলেন। ভিড়ের মাঝখান থেকে ডাক উড়ে এল ‘‌দিদি দিদি’‌!‌ মন্দিরে ঢুকে যাওয়ার পরেও বাইরের জনতার ডাক শুনে মুখ্যমন্ত্রী দাঁড়ালেন, হাত নেড়ে প্রতি নমস্কার জানালেন। জগন্নাথদেবের মূল মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী মিনিট ২০ ছিলেন। এরপর বেরিয়ে এসে মুক্তি মণ্ডপে পুরোহিতদের কাছে আশীর্বাদ নিলেন। এরপর একে একে বিমলা মন্দির, রোহিণীকুণ্ড, বেণীমাধব, গোপেশ্বর, সাক্ষীগোপাল, কাঞ্চিগণেশ, ক্ষীরচোরা গোপীনাথ, সত্যভামা, মহালক্ষ্মী এবং সূর্যমন্দিরে তিনি যান। বেশ কিছুক্ষণ মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে মূল মন্দিরশীর্ষে ধ্বজা ওড়ানো দেখেন। ভেতরে অসংখ্য দর্শনার্থী সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে। সবাই তাঁকে একবার কাছ থেকে দেখতে চান। 
পরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌‌পরশু ইস্টার্ন জোনাল কাউন্সিলের মিটিং আছে। তাই জগন্নাথদেবের কাছে আসার সুযোগ হল। আমি ২০১৭ সালে জগন্নাথদেবের মন্দিরে এসেছিলাম। দয়িতাপতিরা আমার বাড়িতে যান। আমার বাড়িতে জগন্নাথদেবের পুজো হয়। ধ্বজা আমার খুব ভাল লেগেছে। ওঁরা আমাকে দিলেন। যে ধ্বজা পরানো হয়েছিল। আমি খুব গর্বিত। আমি এটা নিয়ে যাব বাংলার জন্য। বাংলার হয়ে সব মানুষের শান্তি কামনা করব। ওডিশাবাসীর জন্যও আমরা শান্তি কামনা করছি। জগন্নাথের মন্দিরে একশো শতাংশ পর্যটকই হল বাংলার। বছরে ৪ থেকে ৫ বার তাঁরা আসেন। নবীনজি (‌নবীন পট্টনায়েক)‌–র সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। সবাই ভাল থাকুন। জয় জগন্নাথ।’‌
মন্দিরের প্রধান রাজেশ দয়িতাপতি বলেন, ‘‌উনি ভালভাবেই পুজো দিয়েছেন। সমস্ত রকমের ভোগ পুজো–অর্চনা হয়েছে।’‌ এদিন ছিল দুই প্রহর ধূপ, শুক্লপক্ষের তৃতীয়া, বুধবার। রামকৃষ্ণ দয়িতাপতি জানালেন, এদিন বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা হয়েছিল।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top