বিজয়প্রকাশ দাস, পূর্ব বর্ধমান: বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল চক্রীকে চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (‌এসটিএফ)‌। ধৃতের নাম আসাদুল্লা শেখ ওরফে রাজা। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ডাঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল্লা খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালে চেন্নাইয়ের থোরিয়াপাক্কাম থেকে এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০বি/১২১/১২১এ/১২২/১২৩/১২৪এ/১২৫ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। বুদ্ধগয়ায় যে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল তা আসাদুল্লার তত্ত্বাবধানে বর্ধমান থেকেই পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত আসাদুল্লা বাংলাদেশের জেএমবি–র সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ৫ বছর সে আত্মগোপন করেছিল। জঙ্গি কার্যকলাপে নাম জড়িয়ে পড়তেই তার স্ত্রী হামিদা বিবি তিন কন্যাকে নিয়ে বাপের বাড়ি মঙ্গলকোটের কুলসোনা গ্রামে চলে যান। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেননি। আসাদুল্লার বিধবা মা আসেদা বিবি অন্য ছেলে আবদুল বাসেরের কাছে চলে যান। তিনি এখন অসুস্থ। ওই ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আসাদুল্লা বাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। তার বাড়িতে এখনও তালা ঝুলছে। মঙ্গলকোটের শিমুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল সে। তাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রাম থমথমে হয়ে যায়। দাদা আবদুল বাসের বলেন, ‌‘‌শুনেছি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খাগড়াগড়কাণ্ডের পর থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বিগত পাঁচ বছরে এখানেও আসেনি। চেন্নাইয়ে ঢালাই ইট তৈরির একটি কারখানায় কাজ করত বলে জানি।’‌ আসাদুল্লার বড় বউদি বলেন, ‘‌তার সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। যখন এখানে থাকত চাষবাস করত। তবে বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকত। তবে কোথায় থাকত, না থাকত আমরা জানতাম না। ওই ঘটনার পর থেকে এখন আর তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই আমাদের।’‌‌‌                  

ছবি: প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top