রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: যেন মহুয়া-‌ঝড় বইল সংসদে!‌ সাংসদ হিসেবে প্রথম ভাষণেই নাগরিকপঞ্জি থেকে স্বঘোষিত গো-‌রক্ষকদের গণপিটুনির মতো ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তুলোধোনা করলেন মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল সাংসদের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনল গোটা সংসদ। 
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণ নিয়ে আলোচনায় তৃণমূলের তরফে অংশ নিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। এটাই তাঁর প্রথম ভাষণ। তুখোড় ইংরেজিতে আগাগোড়া ঝাঁঝালো বক্তৃতায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে চাঁচাছোলা ভাবে আক্রমণ করেন তিনি। শুরু করেছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদের উক্তি দিয়ে। তারপর তিনি বলেন, ‘‌দেশে স্বৈরতন্ত্র চলছে।’‌ অসমে নাগরিকপঞ্জির প্রসঙ্গে মহুয়ার বক্তব্য, ‘‌বিশেষ সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব (‌সংশোধনী)‌ বিল এনেছে মোদি সরকার। যাঁরা ৫০ বছর ধরে এদেশে বসবাস করছেন, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। তাঁদের এখন ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে।‌ এ কোথাকার নিয়ম!‌’‌ এই প্রসঙ্গে শায়রি আওড়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‌সভি কা খুন হ্যায় সামিল ইঁহাকি মিট্টি মে। কিসিকে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়।’‌
সেইসঙ্গেই মোদি সরকারের আমলে গণপিটুনির মতো জঘন্য হিংসাত্মক অপরাধ ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‌রাজস্থানের আলোয়ারে পেহলু খান থেকে সদ্য ঝাড়খন্ডে আনসারিকে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটছে।’‌ তিনি বলেন, ‘‌দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা অনেকটা ছোটবেলার কালো ভূত আতঙ্কের মতো।’‌ দেশে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা ও বিজ্ঞাপনে বিপুল টাকা খরচের অভিযোগও করেন তিনি। বুদ্ধিজীবী, লেখক, কবিদের কন্ঠরোধের প্রসঙ্গও তোলেন। মোদি সরকারের ‘‌জাতীয়তাবাদ’‌-‌এর সংজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, ‘‌দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে কোনও একটি বিশেষ স্লোগান আওড়ানো বাধ্যতামূলক হতে পারে না। দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে আপনাদের কাল্পনিক উগ্র জাতীয়বাদ।’‌ এরপর‌ বহুত্ববাদের প্রসঙ্গও তোলেন। বলেন, ‘‌আপনারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন ঠিকই। কিন্তু, আমার দেশের সংবিধান আমাকে আপনাদের মতের বিরোধিতা করার অধিকার দিয়েছে। তা করবই।’‌ এই প্রসঙ্গেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহুয়া বলেন, ‘‌এবার নির্বাচনে ৬০ হাজার 
কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তার প্রায় ৫০ শতাংশ টাকা খরচ করেছে শাসক দল বিজেপি। যা ২৭ হাজার কোটি টাকা। এটাই স্বৈরতন্ত্র।’‌ অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের ভাষণের পর বক্তব্য রাখেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা রাজ্যের বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা হলেও তিনি আটকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও মমতা ব্যানার্জির সরকারের সমালোচনায়। তিনি বলেন, ‘‌বাংলার মানুষ কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত, কিসান সম্মান নিধি-‌সহ একাধিক প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলায় কার্যত জরুরি অবস্থা চলছে। ভাষাগত বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে।’‌ আরও বলেন, ‘‌রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তিনি পৃথক দেশ গড়তে চান। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে মিশিয়ে দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছেন।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top