আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে— ‘‌দ্য হ্যান্ড দ্যাট রকস্‌ দ্য ক্রেডল্‌, রুলস্‌ দ্য নেশন’‌। যার অর্থ, যে নারী তাঁর সন্তানকে দোলনা দুলিয়ে ঘুম পাড়ায়, সেই প্রয়োজনে দেশ শাসন করতে পারে। আর সেই প্রবাদবাক্যটিই এখন বোধহয় হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিজেপি সরকার। দিল্লির শাহিনবাগ দিয়ে শুরু হয়েছিল। কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দান হয়ে তা এখন পৌঁছে গিয়েছে উত্তর প্রদেশের লখনউ–এর ঘড়িঘরে। সর্বত্র আন্দোলনের মুখ নারীরাই। যুবতী, কিশোরী, বৃদ্ধা সহ সন্তান কোলে মায়েরা কেন্দ্রের নতুন নাগরিক আইন প্রত্যাহারের দাবিতে রাতের পর রাত জাগছেন কনকনে ঠান্ডায় রাস্তায় বসে।
লখনউ–এ গত শুক্রবার ৫০ জন মহিলা শিশু সহ ঘড়িঘরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্রমে সেই সংখ্যা কমপক্ষে হাজার খানেক হয়েছে। শনিবার আন্দোলনকারীদের কম্বল, খাবারের প্যাকেট তুলে নিয়ে পালিয়েছিল লখনউ পুলিস। তা সত্ত্বেও টলানো যায়নি তাঁদের। এবার তথকথিত ‘‌রুদ্ররূপী মুখ্যমন্ত্রী’‌ যোগী আদিত্যনাথের পুলিস আরেকটা পথ অবলম্বন করেছে। মঙ্গলবার ১৫০ জন আন্দোলনকারী ১৫০ জনের নামে তিনটি ফৌজদারি মামলা রুজু করেছে লখনউ পুলিস। তার মধ্যে আছে অবৈধভাবে জমায়েত এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের মতো অভিযোগ। এক মহিলা কনস্টেবলের অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই মামলা রুজু হয়েছে।

ওই মহিলা কনস্টেবলের অভিযোগ, তাঁকে আন্দোলনকারীরা ধাক্কা দিয়েছে এবং দুর্ব্যবহার করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন বিশিষ্ট উর্দু কবি মুনাওয়ার রানার দুই মেয়ে সুমাইয়া রানা এবং ফৌজিয়া রানা। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়েছেন, ‘‌প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। যতক্ষণ পর্যন্ত না সরকারের তরফে কেউ এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন আমরা অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাব।’‌ মঙ্গলবারই লখনউ যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহকে তাঁদের সঙ্গে এসে সরাসরি কথা বলার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশেরই গোমতী নগরেও মঙ্গলবার থেকে সন্তান সহ মহিলারা সিএএ–বিরোধী অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন। ‘‌সাম্যতার ভারত’‌, ‘‌ভাষা, স্বাধীনতা আর সত্যের উপর ১৪৪ ধারা জারি করা যায় না’‌–র মতো লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে চলছে বিক্ষোভ। শাহিনবাগ এবং লখনউ থেকেই তাঁরা অনুপ্রাণিত সেকথা জানিয়ে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ‘‌মোদি সরকারের আমলে এমন কিছু তো হয়েছে যে মেয়েদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে।‌ এটা আমাদের দেশ। সরকার কিছুতেই তার প্রমাণ চাইতে পারে না।’‌ নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতেই তাঁরা পথে নেমেছেন বলে জানালেন আন্দোলনকারী মায়েরা।
ছবি:‌ এএনআই   

জনপ্রিয়

Back To Top