রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ৩০ মে- পয়লা জুন থেকে শুরু হচ্ছে লকডাউন-‌৫। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। শনিবার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, কন্টেনমেন্ট জোন ছাড়া গোটা দেশে ধাপে ধাপে সমস্ত কাজকর্ম শুরু করা যাবে। কন্টেনমেন্ট জোনের বাইরের কাজকর্ম শুরু হওয়াকে কেন্দ্র নাম দিয়েছে ‘‌আনলক–১’‌। তবে, এখনও বন্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, মেট্রো রেল, সিনেমা হল, জিম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, প্রেক্ষাগৃহ, থিয়েটার, বার ইত্যাদি। এছাড়াও সামাজিক, রাজনৈতিক, ক্রীড়া, বিনোদন, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ‘‌স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম’‌ অনুযায়ী কন্টেনমেন্ট জোনের বাইরে ধাপে ধাপে সবরকম কাজকর্ম শুরু হবে। কন্টেনমেন্ট জোন নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকারগুলো। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। কন্টেনমেন্ট জোনে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে।
প্রথম পর্বে অর্থনৈতিক কাজকর্ম শুরু করার ওপর জোর দেওয়া হবে। এই পর্বে ধর্মীয় স্থান ও পূজাস্থল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য পরিষেবামূলক কাজ শুরু করা যাবে। ৮ জুন থেকে খোলা যাবে শপিং মল। এ ব্যাপারে সামাজিক দূরত্ববিধি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে কী করা যাবে তা নিয়ে নির্দেশ জারি করবে। দ্বিতীয় পর্বে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ইত্যাদি খোলা যাবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক–‌‌সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকারগুলো। সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করার পর জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যেতে পারে। এ ব্যাপারেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করবে। 
এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এদিন রাজ্যের মধ্যে এবং আন্তঃরাজ্য মানুষ ও মালপত্রের পরিবহণে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে, পরিবর্তিত নিয়মে রাত ন’‌টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত (‌সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টার পরিবর্তে)‌ চালু থাকবে ‘‌নাইট কার্ফু’‌। যাতায়াতের পৃথক অনুমতির প্রয়োজন হবে না। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনও রাজ্য স্বাস্থ্যজনিত কোনও কারণে যাতায়াতে বিধিনিষেধ চালু করে তা মেনে চলতে হবে।
তৃতীয় পর্বে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ যাবৎ জমায়েত–‌‌সহ যাবতীয় নিষিদ্ধ কার্যকলাপ চালু করার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। তবে, কন্টেনমেন্ট জোনে লকডাউনের বিধিনিষেধ চালু থাকবে।‌‌‌
২৫ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়েছিল। ফলে দেশে অর্থনৈতিক কাজকর্ম প্রায় থমকে যায়। এতদিন পরেও অবশ্য করোনা–পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। বরং এখন দেশে একদিনে সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারাও গিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। এই অবস্থায় করোনাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচার রাস্তা খুঁজতে শুরু করল কেন্দ্র। কারণ, এর কোনও বিকল্প পথও খোলা নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top