সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ৩০ মে- সাজ–শিল্পে কি ঘা মারতে চলেছে দীর্ঘ লকডাউন?‌ সমীক্ষা তো তেমনটাই বলছে। পঞ্চম দফার লকডাউনের শেষ পর্বে রীতিমতো নাভিশ্বাস সেলুন এবং পার্লারগুলিতে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কার্যত জলে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাজার হাজার মানুষ। মালিকদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। একে আয় বন্ধ, তার ওপর সেলুন ঘরের ভাড়া, বিদ্যুতের বিল গোনা— সব মিলিয়ে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি। 
উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের একটি সেলুনের মালিক আরিফ দু’‌মাস আগে শেষবার দোকান খুলেছিলেন। এখন অথৈ জলে। বলেছেন, ‘‌ভাবছি গ্রামের বাড়ি গাজিয়াবাদে ফিরে যাব। খাবার জুটছে না। সেলুনের ভাড়া দেব কোথা থেকে?‌ গ্রামে ফিরে গেলে অন্তত না–খেয়ে তো মরব না। শহরে গরিবদের কথা কেউ ভাবে না।’‌ একই দশা বিউটি পার্লার এবং স্পাগুলোরও। যদিও তেলেঙ্গানা, গুজরাট এবং রাজস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে সেলুন ও বিউটি পার্লার খোলার অনুমতি মিলেছে। কিন্তু দিল্লি, মহারাষ্ট্র, অসম–সহ অন্য রাজ্যগুলিতে ৩১ মে পর্যন্ত সেলুন, পার্লার বন্ধই থাকছে। 
এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকার সেলুন খোলার অনুমতি দিলেও পার্লারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এতেই চূড়ান্ত বিভ্রান্ত পার্লার মালিক ও কর্মীরা। গাজিয়াবাদের পার্লার মালিক সন্ধ্যা রায় জানিয়েছেন, ‘‌শিল্পটা ধ্বংসের মুখে। কর্মীদেরও হয়তো ছাঁটাই করতে হবে। তবুও নিয়ম ভাঙার পক্ষপাতী নই।’‌ যদি ৩১ মে–র পর সেলুন, পার্লার খোলার অনুমতি মেলে, তাহলেও দু’‌মাসের আর্থিক ক্ষতি সামলে তা  কতটা মাথা তুলে দাঁড়াবে সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকছেই। উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্মী নগরের পূজা গুপ্তা তো এ ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘‌এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের সাহায্য দরকার। এতদিনেও কেন সরকারি কোনও সাহায্য আসেনি এটাই বিস্ময়ের।’‌ পশ্চিম বিহারের প্রশান্ত রাজপুত ইতিমধ্যেই তাঁর সেলুনের কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষেবা দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেলেছেন। তবু চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। বলেছেন, ‘‌চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতি সামলে কতদিন ব্যবসা চালাতে পারব?‌ আমি নিশ্চিত লকডাউনের পরও  মাসে সত্তর শতাংশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। কারণ গ্রাহকরা কোনওরকম ম্যাসেজ বা প্রসাধনী সংক্রান্ত পরিষেবা নিতে চাইবেন না। শুধু চুল কেটে কতটাই বা লাভ হতে পারে!‌’‌ ‌‌‌

বহুদিন পর ঝঁাপ খুলেছে। কলকাতার একটি বিউটি পার্লারে। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top