আজকালের প্রতিবেদন: সরকারি বিমা সংস্থা এলআইসি। আমজনতা জানে জীবন বিমা এর মূল ব্যবসা। দেশে জীবন বিমার ব্যবসায় এখনও সবার আগে। কেউ কেউ এটাও জানেন, আরও কিছু কারবার আছে এলআইসি–‌র। সরকারি সিকিউরিটি কেনা, বিপদে পড়া অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জন্য টাকা ঢালা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বেসরকারি বাণিজ্য সংস্থাকে ঋণ জোগানোও একটা কাজ এলআইসি–‌র, যেমন জুগিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক। এবং এই কারণে ব্যাঙ্কের মতোই এলআইসি–‌র ঘাড়ে চাপছে অনাদায়ী ঋণের বোঝা। এবং ব্যাঙ্কের মতোই এক্ষেত্রেও ঋণখেলাপিদের তালিকায় সবার আগে রয়েছে ডেকান ক্রনিক্‌ল, এসার পোর্ট, গ্যামন, আইএল অ্যান্ড এফএস, ভূষণ পাওয়ার, ভিডিওকন ইত্যাদি কর্পোরেট সংস্থা। 
২০১৯–‌২০ অর্থবর্ষের প্রথম ছ’‌মাসের শেষ, অর্থাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসেবমতো এলআইসি–‌র অনাদায়ী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬.‌১ শতাংশ। কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লক্ষ কোটি টাকার ওপর। অনাদায়ী ঋণ ৩০,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে এই টাকার অনেকটাই উদ্ধার করার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। একসময় এলআইসি–‌র অনাদায়ী ঋণের ভাগ ১.‌৫–‌২ শতাংশের মধ্যেই থাকত। গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে এই অকোজো সম্পদের পরিমাণ। বিষয়টা উদ্বেগজনক। আইসিআইসিআই, ইয়েস ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ইত্যাদি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের যে হার, তার কাছাকাছি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকেই মূলত অনাদায়ী ঋণের বোঝা বইতে হয়। কিন্তু হালে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিও এই সমস্যা এড়াতে পারছে না। 

জনপ্রিয়

Back To Top