আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার প্রকাশ্য এল সুপ্রিম কোর্ট এবং খাপ পঞ্চায়েতের বিরোধিতার ছবি। প্রকাশ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিরোধিতায় নামল খাপ পঞ্চায়েতগুলি। তাঁদের বক্তব্য, দেশের শীর্ষ আদালত যদি তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে দেশে কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর এই বক্তব্যের পরই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। তাহলে কী সুপ্রিম কোর্টের থেকেও বেশি ক্ষমতা খাপ পঞ্চায়েতের?‌ উঠছে প্রশ্ন।  কয়েকদিন আগেই একটি মামলার শুনানিতে খাপ পঞ্চায়েতগুলিকে তীব্র ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। দেশে পরিবারের সম্মানরক্ষার্থে ‘‌অনার কিলিং’–এর ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে মামলা রুজু করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আর সেই মামলার শুনানিতেই খাপ পঞ্চায়েতগুলিকে তুলোধনা করে আদালত।‌  পুলিস–প্রশাসন, আদালত, আইনব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয় খাপ পঞ্চায়েতগুলি?‌ কেন প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করতে পারবেন না?‌ এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অংশ অন্য জাতে কিংবা অন্য ধর্মে বিয়ে করলে যেভাবে পরিবারের  সম্মানরক্ষার নামে ‘‌অনার কিলিং’‌ চলছে তারও নিন্দা করেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতিরা।  তাঁরা বলেন, কারোর নৈতিক মানদণ্ড ঠিক করার দায়িত্ব নিতে পারে না খাপ পঞ্চায়েত। কোনও বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ কিনা তা ঠিক করবে আইন। এমনকী আর খাপ পঞ্চাযেতের হাত থেকে অন্য জাতে কিংবা অন্য ধর্মে বিয়ে করা ছেলে–মেয়েকে বাঁচাতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করার কথাও সেদিন বলেছিলেন শীর্ষ আদালতের বিচারকরা। আর এরপরই খাপ পঞ্চায়েতগুলি নেমে পড়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিরোধিতায়।  বালিয়ান খাপের প্রধান নরেশ টিকাইত বলেন, ‘‌আমরা সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করি। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত যদি বহুদিন ধরে চলে আসা রীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তাহলে আমরা সেটা কখনই মেনে নেব না। যদি সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে কোনও আইন পাশ করে কিংবা হস্তক্ষেপের চেষ্টাও করে, তাহলে আমরা কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াই বন্ধ করে দেব। কিংবা তাঁদের বেশিদূর পড়াশোনাও করতে দেব না, যাতে তাঁরা বড় হয়ে নিজেদের ব্যাপারে নিজেরা না সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একবার ভাবুন, এভাবে যদি সমাজে মেয়েদের সংখ্যা কমে যায় তাহলে কী হবে?‌’ এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, ‘‌আমরা একজন কন্যা সন্তানের পড়াশোনার জন্য অনেক টাকা খরচ করি। অথচ তাঁরা বড় হয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করবে, বড়দের অসম্মান করবে, সেটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজে বহু দিন ধরে চলে আসা রীতিনীতিগুলির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।’‌ তোমার খাপের নেতা চৌধুরি সুরেন্দর সিং বলেন, ‘‌এটা মূল্যবোধ এবং নীতিবোধের ব্যাপার, যেটা আমরা সন্তানদের মধ্যে চালনা করি। এর সঙ্গে আদালতের কী সম্পর্ক?‌ আদালতের কথা কে শোনে?‌’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top