আজকাল ওয়েবডেস্ক:‘গেঁও যোগী ভিখ পায় না’–এই প্রবাদ জানি তো আমরা। আর পথে ঘাটে এমন নানা ঘটনা দেখতেও পাই। এই যেমন ধরুন আপনার কাছে ‘ব্রুনো’ বা ‘গোল্ডি’র খুব কদর, ভীষণ আদর করেন ওদের, কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে যখনই দেখেন ‘ভুতো’ ল্যাজ নেড়ে এগিয়ে আসে , মায়া ভরা চোখে আপনার দিকে চেয়ে থাকে, গায়ে গা ঘসতে আসে, তখনই কিন্তু আপনার চূড়ান্ত বিরক্তি তৈরি হয়। কারণ ও তো রাস্তার, বিদেশি জাত নয়–তাই আর সেই কুকুরটিকে ভালো লাগে না। কিন্তু এই ধারণা থেকেই একেবারে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে অ্যালান আর জনি ৪ মাসের নন্দীকে তাঁদের সাথে সুইৎজারল্যাণ্ড নিয়ে যাচ্ছেন। 
অ্যালান আর জনি বেড়াতে এসেছিলেন কেরলের মুন্নারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ডুবে যেতে যেতেই দেখেছিলেন ছোট্ট ছানাটির মায়াভরা চোখ। ৪ মাসের কুকুরছানার সাথে অদ্ভুত এক ভালোবাসা, সখ্য গড়ে ওঠে তাঁদের। রাস্তা থেকে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে স্নান করিয়ে পরিষ্কার করে জন আর অ্যালান ঠিক করেন, সুইৎজারল্যান্ডে নিয়ে যাবেন ওকে। কিন্তু তার জন্য যাবতীয় যা যা ব্যবস্থা করার , তা সব বেশ সময় সাপেক্ষ। তাই অগত্যা নিজেদের ফিরে যাওয়ার সময়, ভিসার মেয়াদ সবই বদলে ফেলেছেন তাঁরা। 
মুন্নার থেকে তাঁরা নন্দীকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান ভারকলায়। সেখানে পশু হাসপাতালে নন্দীর চিকিৎসাও শুরু করেন। সেখানকার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রথমে নন্দীর গলায় একটি মাইক্রোচিপ পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরে অ্যান্টির‌্যাবিস দেওয়া হয়েছে তাকে। তাছাড়াও ন’ টি রোগের বিরুদ্ধে তাকে ‘মাল্টিকমপোনেন্ট ভ্যাকসিন’ দেওয়া হয়। আপাতত কিছু রক্তপরীক্ষা করা হবে কুকুরটির। আর সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই ভারত থেকে সুইৎজারল্যান্ড পাড়ি দেবে জনি আর অ্যালান। সঙ্গে যাবে তাদের আদরের ‘নন্দী’।‌

জনপ্রিয়

Back To Top