আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৯৩ এর থমাস আর ৮৮ এর মারিয়াম। কোভিড-১৯ জয় করে বাড়ি ফিরে এলেন শুক্রবার। কেরলে কোট্টায়াম হাসপাতালে শুক্রবার এই বৃদ্ধ দম্পতিকে ফেয়ারওয়েল জানান সেখানকার কর্মীরা। ইতালিতে থাকেন মারিয়াম্মাদের ছেলে, নাতি আর পুত্রবধূ। তাঁরাই দেখা করতে এসেছিলেন বাবা, মার সঙ্গে। আর তা থেকেই বিপত্তি। তবে এখানেই বিপত্তির শেষ নয়। থমাসদের দেখা শোনার দায়িত্বে থাকা নার্স ৩২ বছরের রেশমা মোহানদাসও এই ভাইরাসের কবলে পড়েছিলেন। আর তাই তিনিও ছিলেন আইসোলেশনে। তবে খুশির খবর রেশমার দ্বিতীয়বারের কোভিড ১৯ পরীক্ষা নেগেটিভ ফল দিয়েছে। শুক্রবার থমাস আর মারিয়াম্মাদের বাকি হাসপাতাল কর্মীদের ফেয়ারওয়েল জানানোর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রেশমাও। 
রেশমাও এবার বাড়ি ফিরে এলেন শুক্রবারেই। তিনি ১২ ই মার্চের পর থেকে বাড়িমুখো হতে পারেননি। প্রথমদিকে তাঁর ডিউটি সাধারণ অপারেশন থিয়েটারে থাকলেও, পরের দিকে হাসপাতালে কোভিড-১৯ এর রোগী বাড়তে থাকায় তিনি নিজেই বাকি সহকর্মীদের সঙ্গে করোনার রোগীদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে চান। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর স্বামী উন্নাকৃষ্ণাণ এতে ভয় পেয়েছিলেন, তবে রেশমার সাহসের কাছে তাঁকেও চুপ থাকতেই হয়েছিল। রেশমার কথায় থমাস এবং মারিয়াম্মাকে আলাদা আলাদা ঘরে প্রথমদিকে রাখা হলেও, পরে তাঁদের একই ঘরে রাখা হয়। দু জনেরই বার্দ্ধক্যজনিত অসুস্থতাও ছিল, তাই কিছুটা খিটখিটে মেজাজ থাকত। থমাস অনেক সময়েই খেতে চাইতেন না, তাঁকে নিজের বাবার মতোই যত্ন করতে হত। মারিয়াম্মের কানে শোনার সমস্যা থাকায়, রেশমা বা তাঁর সহকর্মীদের মারিয়াম্মের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কথা বলতে হত। সম্ভবত সেখান থেকেই ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। 
তবে দ্বিতীয়বার টেস্টে যেহেতু নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে, তাই এবার রেশমা নিজের বাড়ি ফিরে গেলেন। তবে আপাতত ১৪ দিন আইসোলেশনেই থাকবেন তিনি। তবে তাঁর আরও এক সহকর্মী কোভিড ১৯ পজিটিভ, তাঁকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন এই লড়াকু নার্স। তিনি তাঁর বাড়ি আসার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাতেই, কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা সোশ্যাল মিডিয়াতে রেশমাকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন কেরলের হাসপাতালগুলোতে করোনা মোকাবিলার সবরকম ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানকার কর্মীরাও যথেষ্ট দক্ষ, কেরল করোনার সঙ্গে যুদ্ধে ঠিকই জিতে যাবে।

জনপ্রিয়

Back To Top