রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ২০ জানুয়ারি- মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু কার্যত রোড–‌ শোয়ের জনপ্লাবনে ভেসে গেলেন। আটকে রইলেন মাঝপথে। সময়মতো পৌঁছতেই পারলেন না গন্তব্যে। সোমবার তাই আর মনোনয়ন জমা দেওয়া হল না দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। মঙ্গলবার, শেষ দিনে, মনোনয়ন জমা দেবেন।
সোমবার বিকেল ৩টের মধ্যে নতুন দিল্লির জামনগর হাউসে এসডিএম দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল নতুন দিল্লি কেন্দ্রের প্রার্থী কেজরিওয়ালের। এবার গত দু’‌‌বারের থেকে আলাদা ঢঙে, রোড–‌‌শো করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সর্পিল পথে রোড–‌শো করে নিজের গোটা কেন্দ্রে সাড়া ফেলাই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য। বাল্মীকি মন্দিরে পুজো দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। কিন্তু সোজা পথে না গিয়ে পাঁচকুইয়াঁ মার্গ থেকে ইনার সার্কেল হয়ে হনুমান মন্দিরে পৌঁছে গেলেন তিনি। তারপর সেখান থেকে কনট প্লেসে ঢুকে আউটার সার্কেল হয়ে বাবা খড়ক সিং মার্গ ধরে পৌঁছন প্যাটেল চক মেট্রো স্টেশন। আগে থেকে নির্দিষ্ট ছিল এই রোডম্যাপ। সেই অনুযায়ীই এগোচ্ছিল কেজরিওয়ালের হুডখোলা গাড়ি। 
রাস্তায় তখন জনারণ্য। সাদা বেলুন ও দলীয় প্রতীক ঝাঁটা নিয়ে এসেছিলেন দলের নেতা–‌‌কর্মীরা। ছিলেন দলের বাকি সমস্ত বিধায়ক, প্রার্থী, উপ‌মুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া–‌‌সহ প্রায় সব আপ নেতা। কেজরিওয়ালের গাড়ির চারিদিক ঢাকা ছিল স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে। বোধহয় অনভিপ্রেত ছিঁচকে হামলা ঠেকাতে এই বন্দোবস্ত। মুখ্যমন্ত্রীর এই রোড‌–‌শো–‌কে অনেকেই তাঁর দলের শক্তিপ্রদর্শন বলে মনে করছেন। কিন্তু শেষে ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে ঘটে গেল বিপত্তি। ভিড়ের চাপে পাঁচকুইয়াঁ মার্গ থেকে যাত্রা শুরু হওয়ার পর মাত্র একশো মিটার পথ পার হতে মিনিট পনেরো সময় লাগে। তারপর ভিড় ক্রমেই বেড়েছে। শেষমেশ পরিস্থিতি এমন হল যে, বিকেল ৩টের আগে জামনগর হাউস পর্যন্ত যেতে পারলেন না তিনি। ঘোষণা করলেন, মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেবেন। 
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখে রাজনীতি না বোঝার কথা বললেও বাস্তবে আর পাঁচজন রাজনীতিককে ঘোল খাইয়ে ছাড়ছেন কেজরিওয়াল। ২০১৩ সালে দলিত সম্প্রদায়ের ধর্মস্থল বাল্মীকি মন্দির থেকেই যাত্রা শুরু করেছিল আপ। দলের প্রতীক হিসেবে ঝাঁটা বেছে নেওয়া হয়েছিল এখান থেকেই। কেজরিওয়ালের বক্তব্য ছিল, তিনি রাজনীতির সাফাই করতে এসেছেন। যদিও এখন তিনি বলছেন, ‘‌আমি রাজনীতি বুঝি না। সাধারণ মানুষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কাজ বুঝি।’‌ তবে বক্তব্যে যতই পরিবর্তন হোক, এত ঝড়–ঝাপটার পরেও জনপ্রিয়তায় যে ভাটা পড়েনি, তা আজ বেশ বোঝা গেল।
 রবিবার ‘‌গ্যারান্টি কার্ড’‌ প্রকাশ করে দিল্লিবাসীকে ১০টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী সুরক্ষায় বাসে মার্শাল, পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা, মহল্লা ক্লিনিক, পরিবেশ রক্ষায় দু’‌‌কোটি চারাগাছ রোপণ, যমুনা নদী সংস্কার এবং আগামী ৫ বছরে দিল্লিকে দূষণমুক্ত করা। ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ৭০ আসনে ভোটগ্রহণ। ফল ঘোষণা ১১ ফেব্রুয়ারি। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিজেপি ও কংগ্রেস।‌

লোকারণ্য। তখন মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোমবার। ছবি:‌ পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top