আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘‌আয়ুষ্মান ভারত’‌-‌এর চেয়ে দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্প ১০ গুণ ভাল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এমনটাই জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পে যোগ দেওয়ার জন্য পাঁচ রাজ্যকে কয়েকদিন আগেই চিঠি লিখেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। ওই চিঠির জবাবে কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পে দিল্লির প্রায় ২ কোটি মানুষ সুবিধে পেয়ে থাকেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে মাত্র ১০ লক্ষ মানু্্ষ চিকিৎসার সুবিধে পাবেন। ফলে, বঞ্চিত হবেন বাকিরা।’‌ আপ সরকারের দাবি, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পটিতে অনেক বেশি সুবিধে রয়েছে। ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে আয়ুষ্মান ভারত চালু করলে দিল্লির বিরাট সংখ্যক মানুষ নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। 
কয়েকদিন আগে বাংলা, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি লেখেন হর্ষবর্ধন। তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ নিখরচায় আধুনিক মানের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। বাকি রাজ্যগুলির মতো এই পাঁচ রাজ্যকেও প্রকল্পে যোগ দিতে আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ২০১৮ সালের বাজেটে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে মিলবে গরিব পরিবারের। কেন্দ্রের লক্ষ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ কোটি মানুষকে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবায় আনা। বাংলা, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও দিল্লি এই প্রকল্পে যোগ দেয়নি। 
তাদের যুক্তি, আগে থেকেই রাজ্যগুলির নিজস্ব স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু রয়েছে‌ যা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের থেকে অনেক বেশি ভাল।
এদিন কেজরিওয়াল চিঠি লিখে রাজ্য সরকারের প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তুলনা টেনেছেন। প্রশ্ন করেছেন, এই প্রকল্প গোটা দেশে চালু হয়ে থাকলে কেন হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে মানুষ দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসছেন?‌ কেন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধে তাঁরা নিচ্ছেন না?‌ দু’‌ পাতার চিঠিতে কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘‌আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ১০ হাজার টাকার নীচে আয় রয়েছে এমন পরিবারগুলি প্রকল্পের আওতায় আসবে। অর্থাৎ, দিল্লির ন্যূনতম মজুরি পাওয়া পরিবারগুলি এই প্রকল্পের বাইরে চলে যাবে।’‌ এছাড়াও লিখেছেন, ‘‌কেন্দ্রের ওই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার। সেখানে দিল্লির আপ সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে কোনও সীমা নেই। ৩০ লক্ষের বেশি ব্যয় হলেও চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে।’ দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, ‘‌দিল্লিবাসী যাতে চিকিৎসার সুবিধে পান, তা সুনিশ্চিত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্প।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top