আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: জম্মু–কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলির ফলে সেখানকার মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। কারণ, এখন সেখানকার মানুষ দেশের বাকি মানুষের মতো অধিকার ভোগ করবেন এবং সমান সুযোগ–সুবিধা পাবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি শিক্ষার অধিকার ও তথ্য জানার অধিকার এবং শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করেন। আগের জম্মু–কাশ্মীর রাজ্যে এই অধিকারগুলি মানুষের ছিল না। সেইসঙ্গেই রাষ্ট্রপতি নিয়ে আসেন মহিলাদের অধিকারের প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখে তাৎক্ষণিক তিন তালাক বন্ধ হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত সবসময়ই দুর্বলতর মানুষের কথা ভাববে। সবাইকে ন্যায় দেওয়া থেকে শুরু করে চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে অভিযান, সব কিছুই করবে ভারত। ভারত যে চিরকালই সব মানুষের সহাবস্থানের কথা বলে এসেছে, তা মনে করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমরা সবসময়ই একে অপরের পরিচয়কে শ্রদ্ধা করি, তা সে পরিচয় অঞ্চলভিত্তিক হোক, ভাষাভিত্তিক হোক, বিশ্বাসভিত্তিক হোক বা বিশ্বাসহীনতা হোক।’‌ এক্ষেত্রে বিশ্বাসহীনতা বলতে তিনি নাস্তিকতাকে বুঝিয়েছেন। 
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি সার্বিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাড়িতে জল পৌঁছোনো, রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে ব্যবসা–বাণিজ্যের স্বাচ্ছন্দ্য ও আর্থিক ক্ষেত্রে সংস্কারের মতো নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রাষ্ট্রনির্মাণে নাগরিক ও সরকারের মধ্যে সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। কোবিন্দ বলেন, মানুষ চান দ্রুত উন্নয়ন। চান সক্রিয় ও পরিচ্ছন্ন প্রশাসন। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের নীতি নির্ধারকদের ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানুষের চাহিদার কথা বুঝতে হবে। সম্প্রতি সংসদে যে সব বিল পাশ হয়েছে সেগুলির ভুয়সী প্রশংসা করেন কোবিন্দ। সেইসঙ্গেই ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে গুরু নানকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। 
কাল স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধরে নেওয়া যায়, সেখানে তিনি কাশ্মীরের প্রসঙ্গে ফের মুখ খুলবেন। তার আগে আজ রাষ্ট্রপতিও একই সুরে কথা বলে সেখানকার তিনটি অঞ্চলের মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করলেন। ‌আর মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গে বলেন, আজ আমরা যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলির কথা মহাত্মা আগেই বলেছিলেন।‌

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি  রামনাথ কোবিন্দ।

জনপ্রিয়

Back To Top