‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তামিলনাড়ুর রাজনীতির প্রবল পুরুষ মুথুভেল করুণানিধি। বয়স হয়েছিল ৯৪। রয়েছেন চার ছেলে ও দুই মেয়ে। করুণানিধির স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছিল সোমবার থেকেই। হাসপাতালের বুলেটিনে বলা হয়, অবস্থা গুরুতর। মঙ্গলবার সকালে জানানো হয়, খুবই সঙ্কজনক অবস্থা। সন্ধ্যায় ঘোষিত হয় মৃত্যুসংবাদ। দ্রাবিড় রাজনীতির দীর্ঘ একটি যুগের অবসান হল। 
রাজ্যের পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এম জি রামচন্দ্রন, পরে জয়ললিতা। দু‌জনই প্রয়াত। অবসান হল করুণানিধির যুগেরও। মেরিনা বিচে আন্না দুরাইয়ের সমাধিভূমিতে করুণানিধির দেহ সমাহিত করার জন্য জমি চেয়েছেন ছেলে এম কে স্ট্যালিন। রাজ্য সরকার নারাজ। ডিএমকে সমর্থকদের শোক এখন উত্তেজনায় ফুটছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি রাজাগোপালাচারি ও কে কামরাজের স্মারকের কাছে জমি দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। ডিএমকে মানছে না। ২০ মাস আগে মেরিনা বিচেই সমাধিস্থ করা হয় জয়ললিতাকে। 
বয়সের কারণে, রোগভোগে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিলেন করুণানিধি। মূত্রনালির সংক্রমণ ও জ্বর নিয়ে ২৮ জুলাই তারিখে চেন্নাইয়ের কাবেরী হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর অবস্থার ওঠানামা ঘটেছে। সেই সঙ্গে সমর্থকদের আবেগ, অস্থিরতারও। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ–‌সহ দেশের নেতারা হাসপাতালে এসে দেখে যান অসুস্থ নেতাকে। এসেছিলেন রাহুল গান্ধীও। শোক প্রকাশ করেছেন আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাহুল গান্ধী, নানা দলের নেতারা। সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় বাড়ছিল। কেউ বুক চাপড়াচ্ছেন, কেউ মুর্ছা যাচ্ছেন। অনেকেই প্রার্থনায় সোচ্চার:‌ ফিরে আসুন থালাইভা। সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে ঘোষিত হল, ফিরে আর আসবেন না তাঁদের নেতা। 
এম জি রামচন্দ্রন, জয়ললিতার মতো করুণানিধিও রাজনীতিতে এসেছেন চলচ্চিত্রের দুনিয়া থেকে। চিত্রনাট্যকার হিসেবে তখন তাঁর নামডাক। রাজনীতিতে এসে মাতিয়ে দিলেন বাগ্মিতায়। ‘‌কলাইনার’‌ (‌কলাবিদ)‌ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯–‌এ আন্নাদুরাইয়ের মৃত্যুতে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন। পরের পাঁচ দশকে কখনও ক্ষমতায়, কখনও ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই লড়াইয়ে। এবার জয়ললিতা নেই, করুণানিধি নেই। দলকে স্ট্যালিনের হাতেই তুলে দিয়ে গেছেন করুণানিধি। দাদা আলাগিরি বাদ সাধতে পারেন, কিন্তু দলকে ধরে রাখা এবং নতুন হাওয়ায় ক্ষমতায় ফেরানোর দায়িত্ব স্ট্যালিনের হাতেই। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top