‌সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: কোনও দোষ করেছেন মানছেনই না বিজেপির কপিল মিশ্র। দিল্লি হিংসার জন্য অনেকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন এই প্রাক্তন বিধায়ককে। সরব বিরোধীরা। দিল্লি হাইকোর্টও আজ প্রশ্ন তুলেছে। কপিল মিশ্র কোনও অভিযোগই মানছেন না।‌‌‌ তাঁর দাবি, ক্যা সমর্থন করে তিনি কোনও অপরাধ করেননি। ক্যা নিয়ে যা বলেছেন, সবই সত্যি। 
হাইকোর্টে বিষয়টির ওঠার আগেই বুধবার সাতসকালে টুইটে কপিল মিশ্র লিখেছেন, ‘‌‌ক্যা সমর্থন করে কোনও ভুল করিনি। যাঁরা বুরহান ওয়ানি, আফজল গুরুকে সন্ত্রাসবাদী বলে মনে করেন না, তাঁরাই কপিল মিশ্রকে সন্ত্রাসবাদী বলছেন। যাঁরা ইয়াকুব মেমন, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মুক্তির জন্য আদালতে গিয়েছিলেন, তাঁরাই কপিল মিশ্রর গ্রেপ্তারির দাবি করছেন। জয় শ্রীরাম।’ আরেকটি টুইটে লিখেছেন, ‘‌অনেকেই ফোন করে আমাকে খুন করবেন বলছেন। গালাগালি শুনতে হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক–‌সহ অনেকেই আমাকে কুকথা বলছেন। কিন্তু তাতে আমি ভীত নই। কারণ, আমি কোনও ভুল করিনি।’‌
উল্টোদিকে নিন্দায় সরব বিরোধীরা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র বলছেন, ‘‌লজ্জাজনক মন্তব্য করেছেন কপিল মিশ্র। কিন্তু এ নিয়ে সরকার নীরব। কিছুই করছে না। সেটা আরও লজ্জার।’‌ রাজধানীর শান্তি বজায় রাখার ব্যাপারে কংগ্রেস কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। বলেছেন, ‘দিল্লির জনগণের কাছে আমার আবেদন, ঈশ্বরের দোহাই, হিংসায় মদত দেবেন না। প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ, শান্তি বজায় রাখুন। উত্তরপ্রদেশের লোকজনের কাছেও অনুরোধ, রাজ্যে হিংসা ছড়াতে দেবেন না।’‌ সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত উত্তর দিল্লির হিংসার জন্য কপিল মিশ্রকে দায়ী করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন।‌ কপিল মিশ্রর গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছেন তিনি। ‌‌
শনিবার রাত থেকে জাফরাবাদের কাছে উত্তর–‌পূর্ব দিল্লির মৌজপুরে ক্যা বিরোধী প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আর রবিবার সেখানে ক্যা–‌এর সমর্থনে মিছিল করেন কপিল মিশ্র। মিছিল থেকে শাসাতে থাকেন তিনি। হুমকির সুরে বলেন, ‘‌৩ দিনের মধ্যে জাফরাবাদ ও চান্দবাগ এলাকার রাস্তা পুলিশ অবরোধ মুক্ত করতে পারলে ভাল। এরপর আমরা আর কোনও কথা শুনব না। ফল ভুগতে হবে।’ সেদিনই শুরু হয় অশান্তি। বিজেপি নেতার সেই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতা যখন হম্বিতম্বি করছেন, তখন পাশেই দাঁড়িয়ে দিল্লি পুলিশের এক অফিসার। কপিল মিশ্রর বাড়াবাড়ি নিয়ে বিজেপি‌র ভেতরেও রয়েছে অসন্তোষ। গতকালই দলের সাংসদ গৌতম গম্ভীর বলেছেন, কেউ প্ররোচনামূলক মন্তব্য করলেই কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমালোচনার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়াতেও।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top