রাজীব চক্রবর্তী,দিল্লি: জয়া বচ্চনকে আবারও রাজ্যসভায় পাঠাতে চলেছে সমাজবাদী পার্টি। ৩ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে তৃতীয় বারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে জয়ার। জয়া–সহ রাজ্যসভার মোট ৫৮ জন সাংসদের মেয়াদ শেষের মুখে। বুধবারই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৬টি রাজ্যের ৫৮টি আসনে ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা হবে ২৩ মার্চ। এই আসনগুলিতে ভোটের পর রাজ্যসভায় এনডিএ–র শক্তি আরও খানিকটা বাড়বে। এখন রাজ্যসভায় বিরোধীপক্ষে রয়েছেন ১২৩, আর এনডিএ–র দিকে ৮৩। এডিএমকে–র ১৩ জন সদস্যের ও ৪ জন নির্দলের সমর্থনও‌ সরকার পায়। এবার বিজেপি–র সদস্য ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৩ হওয়ার কথা। তাহলে বিরোধীরা কমে ১১৮–তে নামবেন, আর শাসক পক্ষে থাকবেন ১০৫ জন। ফলে পরের অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কোনও বিল পাশের জন্য বিরোধীদের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে। 
যে ৫৮ আসন খালি হচ্ছে তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের ১০টি, বিহারের ৬টি, মহারাষ্ট্রের ৬টি, পশ্চিমবঙ্গের ৫টি, মধ্যপ্রদেশের ৫টি, গুজরাটের ৪টি, কর্ণাটকের ৪টি, ওডিশার ৩টি, রাজস্থানের ৩টি, অন্ধ্রপ্রদেশের ৩টি, তেলেঙ্গানার ৩টি এবং ঝাড়খণ্ডের ২টি আসন রয়েছে। এছাড়া হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের প্রতিটিতে ১টি করে আসন আছে। উত্তরপ্রদেশে ৯টি আসন খালি হওয়ার কথা থাকলেও মায়াবতী পদত্যাগ করায় সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ১০। এবারের ভোটের প্রার্থীদের ১২ মার্চের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৫ মার্চ। 
বাংলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। তবে, সব ক’‌টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিকে, তৃণমূলের যে ৪ জন সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাঁদের মধ্যে শুধু নাদিমুল হককে দ্বিতীয় বার প্রার্থী করা হবে বলে জানিয়েছেন মমতা। বাকি ৪টি নাম ঘোষণা হবে ৯ মার্চ দলের কোর কমিটির বৈঠকের পর। অন্যদিকে, বাংলা থেকে বিরোধীরা জোটবদ্ধ হয়ে ১টি আসন পেতে পারে। এ বিষয়ে বাম দলগুলি ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে খবর। এ ব্যাপারে গতকালই দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি ও বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। সূত্রের খবর, দু’‌পক্ষই নিরপেক্ষ কোনও প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠাতে একমত হয়েছে। তবে, কে প্রার্থী হবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের রাহুল আগামী দু’‌‌দিনের মধ্যে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জমা দিতে বলেছেন। 
এদিকে, মেয়াদ শেষ হলেও পুরনো সাংসদদের অনেককেই আবার টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও আছেন। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান–‌সহ বড় মাপের মন্ত্রীদের দ্বিতীয় বার রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে বিজেপি। সূত্রের খবর, জেটলিকে উত্তরপ্রদেশ থেকে, রবিশঙ্করকে বিহার থেকে, মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরকে মহারাষ্ট্র থেকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে হিমাচল প্রদেশ থেকে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী থাওরচাঁদ গেহলটদের মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসা হবে। এইসব মন্ত্রী ছাড়াও মনসুখভাই মান্ডবীয় ও পুরুষোত্তম রূপালাকে গুজরাট এবং ভূপেন্দ্র যাদবকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসছে বিজেপি। 
সপা প্রার্থী হিসেবে জয়া বচ্চনের চতুর্থবার রাজ্যসভায় আসা পাকা হওয়া প্রসঙ্গে বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ অমর সিং জানিয়েছেন, সপা–র সঙ্গে জয়ার সম্পর্ক বহু পুরনো। তিনি সবসময়ই দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। ওঁর চেয়ে যোগ্য প্রার্থী এখন দলে প্রায় নেই–ই।’ তবে, নরেশ আগরওয়ালের জায়গায় জয়াকে আনার খবরে মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন নরেশ। তিনি বিদ্রোহ করতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০০৪–এ প্রথমবার জয়া বচ্চন সপা–র হয়ে রাজ্যসভায় পা রেখেছিলেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top