‌‌‌‌‌‌‌‌‌সংবাদ সংস্থা, বুলন্দশহর, ৩ ডিসেম্বর- গো–‌হত্যার অভিযোগ। তাই নিয়ে আজ অগ্নিগর্ভ বুলন্দশহরে হিংসার বলি হলেন এক পুলিস অফিসার (‌স্টেশন হাউস অফিসার)‌ এবং এক স্থানীয় যুবক। গণরোষের কেন্দ্রবিন্দু পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর। সেখানকার মাহাউ গ্রামে এক সঙ্গে ২৫টি মৃত গরু উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনা থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। পুলিস দেখে উন্মত্ত জনতার রোষ বাড়ে। ইটবৃষ্টি শুরু হয়। এক সময় গুলিও চলে। জখম হয়ে সুবোধকুমার সিং নামে এসএইচও–‌‌র মৃত্যু হয়। মৃত্যু হয় আহত যুবক সুমিতের। গুরুতর আহত হয়েছেন এক কনস্টেবল।
ভেঁাতা অস্ত্রের ঘায়ে মৃত্যু হয়েছে ইনস্পেক্টর সিংয়ের। একটি মোবাইল ফোনের ভিডিওতে দেখা গেছে, জনতার মধ্যে একজন গুলি চালাতেই তিনি ঢলে পড়ছেন। ওই ভিডিও আসল বলেই জানিয়েছে পুলিস। ভিডিওতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিস। সুবোধ ছিলেন এটা জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা রামপ্রতাপও ছিলেন পুলিসকর্মী। তাঁর মৃত্যুর পর সুবোধ চাকরি পেয়েছিলেন । গোহত্যা এবং একই সঙ্গে গণরোষের তদন্তে ইতিমধ্যে সিট গঠন হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন আছে ৫ কোম্পানি র‌্যাফ এবং ৬ কোম্পানি প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্টেবিউলারি। হিংসার শুরু এদিন সকালে। গ্রামের বাইরে ওই ২৫টি মৃত গরু দেখে। দ্রুত জড়ো হয় হিন্দুত্ববাদীরা। তাঁরা এক নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে গো–‌হত্যায় দায়ী করেন। জেলাশাসক অনুজকুমার ঝা জানিয়েছেন, কিছু লোকে মৃত গরুর লাশ নিয়ে রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিস রাস্তা পরিস্কার করতে গেলে বাধা পায়।’‌ এর পর উপস্থিত জনতা চিংড়াওয়াথি থানায় পৌঁছে হামলা করে। থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। থানা–‌চত্বরে পুলিসকর্মীদের বাইক, গাড়িতেও আগুন লাগায়। উত্তরপ্রদেশ পুলিসের পদস্থ আধিকারিক আনন্দ কুমার জানিয়েছেন, ‘‌থানা ঘেরাও করে অন্তত ৪০০ জন। ট্র‌্যাক্টরে  মৃত গরুর দেহ এনেছিল তারা।’‌
অনেকেই ঘটনাস্থলের ছবি মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করেন। দেখা গেছে, আধপোড়া থানায় তাণ্ডব করছে একদল যুবক। পুলিসকে ইট মারছে। শূন্যে গুলি চালিয়েও তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি পুলিস। বুলন্দশহরে তিন দিনের এক ইসলামি ধর্মসভা চলছে। তটস্থ পুলিস–‌প্রশাসন।

 

বুলন্দশহরে সার সার জ্বলছে পুলিসের গাড়ি। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top