আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দিল্লিতে দাঙ্গার পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন বিরোধীরা। আঙুল তুলছেন সোজা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে। গোয়েন্দা ও পুলিশের ব্যর্থতা তো প্রমাণিত। কিন্তু, অমিত শাহ সামনে আসছেন না। বরং অস্বস্তি এড়াতে এগিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–‌‌ঘনিষ্ঠ জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে। বালাকোট হামলার বর্ষপূর্তিতে দাঙ্গা পীড়িতদের সঙ্গে দেখা করে দোভাল বলছেন, ‘‌ইনশাল্লা, শান্তি ফিরবে।’‌
দোভাল নিরাপত্তার ঘেরাটোপে হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে যাওয়ার পর অনেকেই জানতে চাইছেন, উনি কে?‌ এমনিতে গত ৪ দিন ধরে অশান্তি ও হিংসার ঘটনার পর মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না নিষ্ক্রিয় থাকা দিল্লি পুলিশ। বিজেপি নেতারাও তেমন ভাবে সামনে আসছেন না। এই পরিস্থিতিতে দোভালকে দিয়ে ‘‌ড্যামেজ কন্ট্রোল’‌ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে হিংসা কবলিত কিছু এলাকা ঘুরে দেখেছেন দোভাল। বুধবার দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) এসএন শ্রীবাস্তব, স্পেশ্যাল কমিশনার (ক্রাইম) সতীশ গোলচা এবং উত্তর–‌পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার বেদপ্রকাশ সূর্যর সঙ্গে বৈঠক করেন দোভাল। দুপুরে মৌজপুর, ব্রহ্মপুরী, গোকুলপুরী, জাফরাবাদ, ভজনপুরা, করাওয়ালনগর, মুস্তাফাবাদ–‌‌সহ কয়েকটি এলাকায় যান তিনি। কথা বলেন দাঙ্গা পীড়িতদের সঙ্গে। সেখানে ঘোন্ডা এলাকায় দোভালকে এক মুসলিম বৃদ্ধ অভিযোগ করলেন, ‌‘‌আরএসএসের নির্দেশে অমিত শাহর ষড়যন্ত্রেই হিংসা ছড়ানো হয়েছে। বাড়ি–‌‌ঘর, দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে নীরব দর্শক করে রাখা হয়েছে। পরিজনরা খুন হয়েছে।’‌ দোভাল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‌স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‌নির্দেশেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। 
উত্তর–‌পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ অঞ্চলের গলি–‌মহল্লায় ঢুকতেই বোরখায় মুখ ঢাকা এক ছাত্রী সরাসরি দোভালকে অভিযোগ করেন, ‘প্রতি মুহূর্তে হামলা হচ্ছে। আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি। পুলিশকে অভিযোগ জানালেও ফল হচ্ছে না। তারা দর্শক হয়ে হামলা দেখছে।’ দোভাল তাঁকে বলেন, ‘চিন্তার কোনও কারণ নেই। পুলিশ আছে। এমন আর হবে না।’‌ এক মহিলাকে দোভাল বলেন, ‘ভাইচারা বজায় রাখুন। আমাদের একটাই দেশ। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে থাকব। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ পরে সাংবাদিকদের দোভাল বলেন, ‘‌পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভরসা রাখুন। আমার ওপর ভরসা রাখুন। সকলের মন থেকে ভয় দূর করতে হবে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। দিল্লির রাস্তায় আর কেউ বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াতে পারবে না।’‌ 
দোভাল যখন হিংসা কবলিত এলাকা ঘুরছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন পাশ থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘‌হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ।’

জনপ্রিয়

Back To Top