তরুণ চক্রবর্তী: রেল পরিষেবায় দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া। বিভিন্ন ট্রেনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হাতে। রেলেরই একটি সূত্রের খবর, বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থা ইন্ডিগো পেতে চলেছে রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রী পরিষেবার ভার। রেলের বিলাসবহুল অন্যান্য ট্রেনের ভার ইন্ডিগো ছাড়াও স্পাইস জেট–‌সহ একাধিক বেসরকারি সংস্থার হাতে যাবে। তবে এটাকে মোটেই বেসরকারীকরণ বলে মানছেন না রেলকর্তারা। তাঁদের দাবি, শুধু যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের ভার দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি হাতে। কিন্তু ট্রেনগুলি চালাবে ভারতীয় রেলই।
রাজধানী বা দুরন্তের মতো বিলাসবহুল দূরপাল্লার ট্রেনে খুব শিগগিরই দেখা মিলতে পারে ‘এয়ার হোস্টেস’–‌দের আদলে ‘ট্রেন হোস্টেস’–‌দের। যাত্রী আপ্যায়ন থেকে স্বাচ্ছন্দ্য দেখাই হবে তাঁদের কাজ। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলির যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় ওই সংস্থাগুলিই অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে রেলকর্তাদের অনুমান। আর এই দৌড়ে ইন্ডিগো সব থেকে এগিয়ে আছে বলে রেলসূত্রের খবর। রেলকর্তাদের পাশাপাশি ইন্ডিগোও যাত্রী পরিষেবার বরাত পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।   
দিল্লিতে মোদি জমানা শুরু হওয়ার পরই রেলের বিভিন্ন ধরণের সংস্কার শুরু হয়। প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই রেলের পৃথক বাজেট তুলে দেয় মোদি সরকার। তারপর শুরু হয় আগের আমলের বিভিন্ন ট্রেনের নাম বদলে নতুন নামে পুরনো সার্ভিসকে চালু করার পালা। সর্বশেষ সংযোজন মঙ্গলবার চালু হল ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের ‘টিম মোদি ভার্সন’ সেবা। লালুপ্রসাদ যাদবের আমলে চালু গরিব রথ–‌এর আদলে আগেই চালু হয়েছে ‘হামসফর এক্সপ্রেস’। তবে মমতা ব্যানার্জির আমলে চালু ‘দুরন্ত’ এখনও দুরন্তই রয়ে গিয়েছে। 
শুধু রেলের এলিট শ্রেণির ট্রেনগুলিই এখন বেসরকারি হাতে যেতে চলেছে। তৎকালীন রেলমন্ত্রী রাম সুভাগ ১৯৬৯ সালের ৩ মার্চ চালু করেন ভারতীয় রেলের সবচেয়ে ‘গর্বের ধন’ রাজধানী এক্সপ্রেস। সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে চালু হয় রাজধানীর যাত্রা। ১৯৮৮ সালে মাধবরাও সিন্ধিয়ার হাত ধরে চালু হয় আরেক আধুনিক ট্রেন শতাব্দী এক্সপ্রেস। মমতা ব্যানার্জি ২০০৯–‌এ চালু করেন দুরন্ত এক্সপ্রেস। লালুপ্রসাদ যাদবের হাত ধরে চালু হয় গরিব রথ। এরপর মোদি জমানায় হামসফর, অন্ত্যোদয়, সেবা। এই সব ট্রেনই চলে যাবে বেসরকারি হাতে।
লাভ করাই এখন রেলের মূল লক্ষ্য। পণ্য পরিবহণের লাভ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ভাড়ার হার ঠিক করাই ছিল পূর্বতন সরকারগুলির মূল লক্ষ্য। কিন্তু মোদি জমানায় রেলের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার লাভ দেখাটাও রেলের ‘বড় দায়িত্ব’ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রেলেরই অনেকে। তাঁরা মনে করছেন, পর্যায়ক্রমে পুরো রেলটাকেই বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চায় বর্তমান সরকার। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রেলকর্মীদের ভবিষ্যৎও এখন প্রশ্নচিহ্নের সামনে বলেই তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top